লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি ভোট সম্পন্ন করতে চায় ইসি

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়েও আরও উন্নত প্রযুক্তি এই উপনির্বাচনে কাজে লাগানো হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কমিশন বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় হলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অনুরোধ জানিয়েছে যেন নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।

নির্বাচনী দায়িত্বে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশনকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা শুরু হয়ে যাবে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি শেষ হওয়ার পর এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত যে সীমিত সময় পাওয়া যাবে, তার মধ্যেই সব কার্যক্রম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে কমিশন।

ইউপি নির্বাচনের আগের পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ তা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের যে কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল একটি সাময়িক বা খসড়া পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের সমন্বয় সভার পর পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সব তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশনের বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডন থেকে ঢাকাগামী বিমানে মাঝ আকাশে যাত্রীদের মারামারি

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি ভোট সম্পন্ন করতে চায় ইসি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়েও আরও উন্নত প্রযুক্তি এই উপনির্বাচনে কাজে লাগানো হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কমিশন বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় হলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অনুরোধ জানিয়েছে যেন নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।

নির্বাচনী দায়িত্বে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশনকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা শুরু হয়ে যাবে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি শেষ হওয়ার পর এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত যে সীমিত সময় পাওয়া যাবে, তার মধ্যেই সব কার্যক্রম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে কমিশন।

ইউপি নির্বাচনের আগের পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ তা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের যে কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল একটি সাময়িক বা খসড়া পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের সমন্বয় সভার পর পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সব তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশনের বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।