লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গরমে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল, ভোগান্তি চরমে

তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯৫২ মেগাওয়াট। ফলে এই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াটে। এর আগে বিকেল ৪টায় ১৬ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট। আর বিকেল ৩টায় ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং সাড়ে ৭টার দিকে ঘাটতি কমে ২ হাজার ৫৪২ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগের দিনগুলোর তুলনায় শনিবারের ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২৩ মেগাওয়াট। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৭৭৮ মেগাওয়াট। তবে ওইদিন বিকেল ৩টায় ঘাটতি ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা ছিল গত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা করে লোডশেডিং হয়েছে। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর পুনরায় চলে গেছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সূচির বাইরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক কর্মকর্তা জানান, তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বাড়লেও বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে বিকল্প উৎস থেকেও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, চাহিদা ও উৎপাদনের এই বিশাল ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনা না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার রাত ১০টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি (আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৮৪১ মিলিয়ন ঘনফুট।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতির নতুন সম্ভাবনা

তীব্র গরমে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯৫২ মেগাওয়াট। ফলে এই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াটে। এর আগে বিকেল ৪টায় ১৬ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট। আর বিকেল ৩টায় ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং সাড়ে ৭টার দিকে ঘাটতি কমে ২ হাজার ৫৪২ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগের দিনগুলোর তুলনায় শনিবারের ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২৩ মেগাওয়াট। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৭৭৮ মেগাওয়াট। তবে ওইদিন বিকেল ৩টায় ঘাটতি ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা ছিল গত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা করে লোডশেডিং হয়েছে। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর পুনরায় চলে গেছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সূচির বাইরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক কর্মকর্তা জানান, তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বাড়লেও বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে বিকল্প উৎস থেকেও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, চাহিদা ও উৎপাদনের এই বিশাল ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনা না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার রাত ১০টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি (আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৮৪১ মিলিয়ন ঘনফুট।