লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরাজনৈতিক সংঘাতে ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সংকট, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরেশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে ইউরোপের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরব ইউরোপের শোধনাগারগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী মাসে তাদের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের চলমান জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি মহাদেশটির মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালি, কৃষ্ণসাগর এবং কাস্পিয়ান সাগরের উত্তেজনা সরবরাহ শৃঙ্খলকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর হুথিরা মোখা বন্দর এবং ১১ সেপ্টেম্বর বাব আল-মান্দেব প্রণালির মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর তারা গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জও দখল করে। তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে যুদ্ধঝুঁকির বিমা খরচ বাড়ায় অনেক জাহাজ এখন আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে প্রতিটি যাত্রায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগছে এবং পরিবহন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

এর আগে বছরের শুরুর দিকে কয়েক মাস হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল। সে সময় ইউরোপ বাধ্য হয়ে আটলান্টিক অববাহিকা ও কাস্পিয়ান অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়। সংকট সামাল দিতে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠিয়ে সরবরাহ দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছিল। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার পর এই পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের জ্বালানি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কনস্টানতিনোস স্টামবোলিস সতর্ক করে বলেছেন, এই জ্বালানি সংকট এখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে রূপ নিতে শুরু করেছে, যার স্পষ্ট লক্ষণ ইউরোপে দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে ইউরোজোনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে এবং জ্বালানি খাতে এই মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধও ইউরোপের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউক্রেনের উপর্যুপরি হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। কাজাখস্তানকে ইউরোপের জন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প ভাবা হলেও তা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কাজাখস্তানের ৮০ শতাংশের বেশি তেল সিপিসি পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে নিয়ে রপ্তানি করা হয়। ইউক্রেন যদি ওই রুশ বন্দরে হামলা চালায়, তবে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যাবে।

বিকল্প হিসেবে কাজাখস্তান কাস্পিয়ান সাগর হয়ে আজারবাইজান ও তুরস্কের পথ ব্যবহার করতে পারে। তবে বাকু-সুপসা পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল, যা কাজাখস্তানের স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অতিরিক্ত তেল বাকু-তিবিলিসি-জেয়হান পাইপলাইন দিয়ে পাঠানোর সুযোগ থাকলেও কাস্পিয়ান অঞ্চলের পথটিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। গত ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এর প্রমাণ। কাজাখস্তান যদি পশ্চিমে তেল পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা চীনের বাজারে তাদের রপ্তানি বাড়াতে পারে, যা ইউরোপের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

আসন্ন শীতের আবহাওয়াও ইউরোপের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। রিস্ট্যাড এনার্জি ও আইসিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো জলবায়ুর প্রভাব ইউরোপের জ্বালানি চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে। শীতের শুরুটা তুলনামূলক উষ্ণ হলেও ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। আইসিসের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে শীতকালে ইউরোপের বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে।

এর পাশাপাশি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন মিথেন সংক্রান্ত নিয়মাবলীও গ্যাস সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন আইন অনুযায়ী, গ্যাস ও এলএনজি আমদানিকারকদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বিদেশি উৎপাদকরা পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখছে। কিন্তু অনেক দেশের উৎপাদকদের কাছে এই মানদণ্ড পরিমাপের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা তথ্যব্যবস্থা নেই। ফলে নিয়ম মেনে উৎপাদিত গ্যাসের দাম বাজারে আরও বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিকভাবে, ইউরোপের এই জ্বালানি সংকট কেবল সরবরাহের ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা শিল্প উৎপাদন হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

ভূরাজনৈতিক সংঘাতে ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সংকট, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরেশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে ইউরোপের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরব ইউরোপের শোধনাগারগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী মাসে তাদের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের চলমান জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি মহাদেশটির মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালি, কৃষ্ণসাগর এবং কাস্পিয়ান সাগরের উত্তেজনা সরবরাহ শৃঙ্খলকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর হুথিরা মোখা বন্দর এবং ১১ সেপ্টেম্বর বাব আল-মান্দেব প্রণালির মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর তারা গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জও দখল করে। তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে যুদ্ধঝুঁকির বিমা খরচ বাড়ায় অনেক জাহাজ এখন আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে প্রতিটি যাত্রায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগছে এবং পরিবহন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

এর আগে বছরের শুরুর দিকে কয়েক মাস হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল। সে সময় ইউরোপ বাধ্য হয়ে আটলান্টিক অববাহিকা ও কাস্পিয়ান অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়। সংকট সামাল দিতে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠিয়ে সরবরাহ দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছিল। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার পর এই পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের জ্বালানি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কনস্টানতিনোস স্টামবোলিস সতর্ক করে বলেছেন, এই জ্বালানি সংকট এখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে রূপ নিতে শুরু করেছে, যার স্পষ্ট লক্ষণ ইউরোপে দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে ইউরোজোনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে এবং জ্বালানি খাতে এই মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধও ইউরোপের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউক্রেনের উপর্যুপরি হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। কাজাখস্তানকে ইউরোপের জন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প ভাবা হলেও তা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কাজাখস্তানের ৮০ শতাংশের বেশি তেল সিপিসি পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে নিয়ে রপ্তানি করা হয়। ইউক্রেন যদি ওই রুশ বন্দরে হামলা চালায়, তবে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যাবে।

বিকল্প হিসেবে কাজাখস্তান কাস্পিয়ান সাগর হয়ে আজারবাইজান ও তুরস্কের পথ ব্যবহার করতে পারে। তবে বাকু-সুপসা পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল, যা কাজাখস্তানের স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অতিরিক্ত তেল বাকু-তিবিলিসি-জেয়হান পাইপলাইন দিয়ে পাঠানোর সুযোগ থাকলেও কাস্পিয়ান অঞ্চলের পথটিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। গত ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এর প্রমাণ। কাজাখস্তান যদি পশ্চিমে তেল পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা চীনের বাজারে তাদের রপ্তানি বাড়াতে পারে, যা ইউরোপের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

আসন্ন শীতের আবহাওয়াও ইউরোপের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। রিস্ট্যাড এনার্জি ও আইসিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো জলবায়ুর প্রভাব ইউরোপের জ্বালানি চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে। শীতের শুরুটা তুলনামূলক উষ্ণ হলেও ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। আইসিসের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে শীতকালে ইউরোপের বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে।

এর পাশাপাশি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন মিথেন সংক্রান্ত নিয়মাবলীও গ্যাস সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন আইন অনুযায়ী, গ্যাস ও এলএনজি আমদানিকারকদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বিদেশি উৎপাদকরা পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখছে। কিন্তু অনেক দেশের উৎপাদকদের কাছে এই মানদণ্ড পরিমাপের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা তথ্যব্যবস্থা নেই। ফলে নিয়ম মেনে উৎপাদিত গ্যাসের দাম বাজারে আরও বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিকভাবে, ইউরোপের এই জ্বালানি সংকট কেবল সরবরাহের ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা শিল্প উৎপাদন হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।