লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এ লক্ষ্য পূরণে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুফল যেন সরাসরি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজন নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত এই সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সরকারি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ড. শতিল হক, ড. ইউসুফ হক, ড. ওমর ইশরাক, মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং বদরুল সারওয়ার।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, সরকার বিএইআর সামিটসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষ জনশক্তির সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার প্রসারে শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুবর্ণচরে চোরাই গরু বিক্রির দায়ে যুবদল নেতা বহিষ্কার

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এ লক্ষ্য পূরণে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুফল যেন সরাসরি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজন নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত এই সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সরকারি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ড. শতিল হক, ড. ইউসুফ হক, ড. ওমর ইশরাক, মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং বদরুল সারওয়ার।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, সরকার বিএইআর সামিটসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষ জনশক্তির সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার প্রসারে শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।