লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাটতি মেটাতে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতে ইলিশ যাওয়ার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে এবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশের বাজারে রূপালি ইলিশের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় এই প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট এবং কলকাতার হাওড়া পাইকারি বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ ‘উপহার’ হিসেবে পাঠানো হলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে মাছ আমদানি করতে বাধ্য হয়েছেন। আমদানিকৃত এই ইলিশের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ইলিশের তীব্র সংকট মেটানোর জন্যই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের গুজরাটের ভারুচ বন্দর থেকে সংগৃহীত ডিম ভর্তি ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে। এই আমদানিকৃত ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিদেশে রপ্তানি করার পাশাপাশি দেশের বাজারে নোনা ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে এবং ইলিশের ডিম আলাদা করে বাজারজাত করা হচ্ছে。

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তবে এবার বাংলাদেশে ইলিশের তীব্র ঘাটতি থাকায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করা হলো।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং বৈশ্বিক ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মূলত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ইলিশ রপ্তানি করা হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত পরিসরে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হতো। গত বছর পূজার আগে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ টন ইলিশ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে এবারের দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশের সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য বিভাগে আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত বছর পূজার আগেভাগে বাংলাদেশ ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকসের

ঘাটতি মেটাতে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতে ইলিশ যাওয়ার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে এবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশের বাজারে রূপালি ইলিশের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় এই প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট এবং কলকাতার হাওড়া পাইকারি বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ ‘উপহার’ হিসেবে পাঠানো হলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে মাছ আমদানি করতে বাধ্য হয়েছেন। আমদানিকৃত এই ইলিশের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ইলিশের তীব্র সংকট মেটানোর জন্যই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের গুজরাটের ভারুচ বন্দর থেকে সংগৃহীত ডিম ভর্তি ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে। এই আমদানিকৃত ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিদেশে রপ্তানি করার পাশাপাশি দেশের বাজারে নোনা ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে এবং ইলিশের ডিম আলাদা করে বাজারজাত করা হচ্ছে。

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তবে এবার বাংলাদেশে ইলিশের তীব্র ঘাটতি থাকায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করা হলো।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং বৈশ্বিক ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মূলত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ইলিশ রপ্তানি করা হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত পরিসরে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হতো। গত বছর পূজার আগে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ টন ইলিশ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে এবারের দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশের সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য বিভাগে আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত বছর পূজার আগেভাগে বাংলাদেশ ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়।