লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার তেল আমদানিতে মার্কিন শুল্কের সিদ্ধান্তে ভারতের সতর্কবার্তা

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিলটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এই বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিলটি পাস করেছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নয়াদিল্লি তাদের উদ্বেগের কথা স্পষ্ট করেছে। ভারতের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে। নিজেদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে ভারত প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার বাজেট-ঘাটতি পূরণে সহায়তা করছে। তবে নয়াদিল্লি বারবারই তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে এই চাপ প্রতিহত করেছে।

ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোর সূত্র জানিয়েছে, তারা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য রাশিয়ার তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করে রেখেছে। শোধনাগারগুলো আশঙ্কা করছে যে, ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে, যা তাদের মুনাফার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা ছাড় বা লেনদেন শেষ করার সুযোগ চাওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক আরোপের হুমকি ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া এতে বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন এবং সেখানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিরের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

নয়াদিল্লি আরও ভালো একটি চুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চলতি মাসের শেষ দিকে জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

রাশিয়ার তেল আমদানিতে মার্কিন শুল্কের সিদ্ধান্তে ভারতের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিলটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এই বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিলটি পাস করেছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নয়াদিল্লি তাদের উদ্বেগের কথা স্পষ্ট করেছে। ভারতের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে। নিজেদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে ভারত প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার বাজেট-ঘাটতি পূরণে সহায়তা করছে। তবে নয়াদিল্লি বারবারই তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে এই চাপ প্রতিহত করেছে।

ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোর সূত্র জানিয়েছে, তারা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য রাশিয়ার তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করে রেখেছে। শোধনাগারগুলো আশঙ্কা করছে যে, ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে, যা তাদের মুনাফার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা ছাড় বা লেনদেন শেষ করার সুযোগ চাওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক আরোপের হুমকি ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া এতে বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন এবং সেখানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিরের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

নয়াদিল্লি আরও ভালো একটি চুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চলতি মাসের শেষ দিকে জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।