লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর ও পুলিশের লাঠিচার্জ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাতকে স্থানীয়দের দ্বারা মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত আশিক এবং প্লাম্বার মাইকেলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসার পানির লাইন মেরামতের খরচ নিয়ে। শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত বাড়িওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেন, কিন্তু কাজ শেষে প্লাম্বার মাইকেল অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাইকেল রাহাতের জুতা নিয়ে চলে যান। জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে রাহাতকে মারধর করেন, এতে তার মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে রাহাতের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই আশিককে মারধরের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের এই লাঠিচার্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লিমন ইসলাম আহত হন। আহত রাহাতকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, এডিসি মীর মুহাসীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাপপ্রবাহে বছরে ৩ কোটি কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর ও পুলিশের লাঠিচার্জ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাতকে স্থানীয়দের দ্বারা মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত আশিক এবং প্লাম্বার মাইকেলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসার পানির লাইন মেরামতের খরচ নিয়ে। শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত বাড়িওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেন, কিন্তু কাজ শেষে প্লাম্বার মাইকেল অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাইকেল রাহাতের জুতা নিয়ে চলে যান। জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে রাহাতকে মারধর করেন, এতে তার মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে রাহাতের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই আশিককে মারধরের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের এই লাঠিচার্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লিমন ইসলাম আহত হন। আহত রাহাতকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, এডিসি মীর মুহাসীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।