লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ায় পানির নিচে ১২ লাখ মণ লবণ, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে প্রায় ৬ হাজার একর লবণ মাঠ। উৎপাদন মৌসুম শেষ হলেও মাঠের গর্তে মজুত রাখা প্রায় ১২ লাখ মণ লবণ এখনও পানির নিচে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

উৎপাদন মৌসুমে লবণের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে অধিকাংশ চাষি ও ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় মাঠের গর্তে লবণ জমিয়ে রেখেছিলেন। গত মৌসুমে প্রতি মণ লবণ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। প্রতি একরে গড়ে ৮০০ মণ লবণ উৎপাদন হলেও, খরচ মিটিয়ে চাষিরা মাঠের গর্তে প্রতি একরে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মণ লবণ জমা রেখেছেন। এই হিসেবে প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে মোট ১২ লাখ মণ লবণ এখন পানির নিচে আটকা পড়েছে।

লেমশীখালী বিলের লবণ চাষি ও সাবেক মেম্বার নুর মোহাম্মদ জানান, দাম কম থাকায় তিনি মাঠে ৩ হাজার মণ লবণ জমা রেখেছিলেন। এখন দাম কিছুটা বাড়লেও মাঠে পানি জমে থাকায় তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, কৈয়ারবিলের ব্যবসায়ী আনছারুল করিম জানান, তিন বছরের প্রায় ১৫ হাজার মণ লবণ তিনি গর্তে ফেলে রেখেছেন, যা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গর্তের বাঁধ ছিঁড়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন তিনি।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মৌলভী মোহাম্মদ হোছাইন ন্যায্য দামের আশায় ২০ হাজার মণ লবণ জমিয়ে রেখেছেন। ফুডার পাড়ার চাষি তমিজ উদ্দিন জানান, লোকসানে বিক্রির চেয়ে লবণ গর্তে রাখাটাকেই তারা বেশি নিরাপদ মনে করেছিলেন, কিন্তু এখন প্রকৃতি বিরূপ হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলায় প্রায় ৫০০ লবণ ব্যবসায়ী মধ্যসত্বভোগী হিসেবে কাজ করছেন। তারা পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও ঘাটের হাসিল বাবদ প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য থেকে ৬০-৭০ টাকা কেটে নেন। লবণের কোনো নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য না থাকায় চাষিরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন, তার ওপর এই জলমগ্নতা তাদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, মাঠের পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু-চার দিনের মধ্যেই পানি সরে যাবে এবং চাষিদের দুশ্চিন্তা দূর হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার

কুতুবদিয়ায় পানির নিচে ১২ লাখ মণ লবণ, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে প্রায় ৬ হাজার একর লবণ মাঠ। উৎপাদন মৌসুম শেষ হলেও মাঠের গর্তে মজুত রাখা প্রায় ১২ লাখ মণ লবণ এখনও পানির নিচে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

উৎপাদন মৌসুমে লবণের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে অধিকাংশ চাষি ও ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় মাঠের গর্তে লবণ জমিয়ে রেখেছিলেন। গত মৌসুমে প্রতি মণ লবণ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। প্রতি একরে গড়ে ৮০০ মণ লবণ উৎপাদন হলেও, খরচ মিটিয়ে চাষিরা মাঠের গর্তে প্রতি একরে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মণ লবণ জমা রেখেছেন। এই হিসেবে প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে মোট ১২ লাখ মণ লবণ এখন পানির নিচে আটকা পড়েছে।

লেমশীখালী বিলের লবণ চাষি ও সাবেক মেম্বার নুর মোহাম্মদ জানান, দাম কম থাকায় তিনি মাঠে ৩ হাজার মণ লবণ জমা রেখেছিলেন। এখন দাম কিছুটা বাড়লেও মাঠে পানি জমে থাকায় তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, কৈয়ারবিলের ব্যবসায়ী আনছারুল করিম জানান, তিন বছরের প্রায় ১৫ হাজার মণ লবণ তিনি গর্তে ফেলে রেখেছেন, যা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গর্তের বাঁধ ছিঁড়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন তিনি।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মৌলভী মোহাম্মদ হোছাইন ন্যায্য দামের আশায় ২০ হাজার মণ লবণ জমিয়ে রেখেছেন। ফুডার পাড়ার চাষি তমিজ উদ্দিন জানান, লোকসানে বিক্রির চেয়ে লবণ গর্তে রাখাটাকেই তারা বেশি নিরাপদ মনে করেছিলেন, কিন্তু এখন প্রকৃতি বিরূপ হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলায় প্রায় ৫০০ লবণ ব্যবসায়ী মধ্যসত্বভোগী হিসেবে কাজ করছেন। তারা পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও ঘাটের হাসিল বাবদ প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য থেকে ৬০-৭০ টাকা কেটে নেন। লবণের কোনো নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য না থাকায় চাষিরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন, তার ওপর এই জলমগ্নতা তাদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, মাঠের পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু-চার দিনের মধ্যেই পানি সরে যাবে এবং চাষিদের দুশ্চিন্তা দূর হবে।