লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনের সময় হওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা অনেকে দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)। সেখানে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা বা মাথা হারিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মাথার একটি অংশই এখন আর নেই।

আইনমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের ভাই, বোন, মা ও স্বামী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এত কিছুর পরও অনেকে দাবি করছেন যে কিছুই ঘটেনি। ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা ঠেকাতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলা। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি সব নাগরিকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দেশে ফ্যাসিবাদ যেন আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সেজন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে চোখ খুলে অবস্থান নিতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান যেখানে এসব মূল্যবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারাও সমাজের অংশ এবং তাদের সমান অধিকার রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.) এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ান ইস্যুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে কূটনৈতিক বিতর্ক

২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের সময় হওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা অনেকে দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)। সেখানে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা বা মাথা হারিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মাথার একটি অংশই এখন আর নেই।

আইনমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের ভাই, বোন, মা ও স্বামী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এত কিছুর পরও অনেকে দাবি করছেন যে কিছুই ঘটেনি। ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা ঠেকাতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলা। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি সব নাগরিকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দেশে ফ্যাসিবাদ যেন আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সেজন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে চোখ খুলে অবস্থান নিতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান যেখানে এসব মূল্যবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারাও সমাজের অংশ এবং তাদের সমান অধিকার রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.) এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।