লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের টিকা অকার্যকর: ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হামের টিকা দেওয়ার পরও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠেনি। ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না এবং টিকা ও টিকাদানব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে।

আইইডিসিআর-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান পাবলিক হেলথ নেটওয়ার্ক ও ঢাকা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ১২ জন গবেষক ও কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ছয়টি উপশহর ও গ্রাম এলাকার ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩০৯টি শিশুকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টিকা কার্ড যাচাই এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে শিশুদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০৯টি শিশুর মধ্যে ২০৩টির বা ৬৫.৭ শতাংশের শরীরে হামের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ২১টি বা ৬.৮ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি বর্ডার লাইন বা সীমান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ৮৫টি শিশুর শরীরে কোনো অ্যান্টিবডিই তৈরি হয়নি, যা মোট নমুনার ২৭.৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের তুলনায় ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠার প্রবণতা বেশি।

টিকাবিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, টিকার কার্যকারিতা শিশুর বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৬ মাস বয়সে টিকা দিলে ১০০টির মধ্যে ৫০টির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে ১০০টির মধ্যে ৮৫টির এবং ১২ মাস বয়সে টিকা দিলে ৯০ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার কথা। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় প্রাপ্ত হার অনেক কম।

টিকাবিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারি জানান, টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রার হেরফের হলে টিকার মান পড়ে যেতে পারে। এছাড়া শিশু অতিমাত্রায় অপুষ্টির শিকার হলে টিকা কম কার্যকর হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ব্যবহৃত টিকার মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম-রুবেলার জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু পাঁচ মাস পরও সংক্রমণ থামেনি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩৮৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ১ হাজার ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের এবং ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এটি একটি ছোট গবেষণা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও বড় গবেষণা দরকার। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এস এম এ সাফি জানান, ৩০টি উপজেলার প্রতিটি থেকে ১০০ করে মোট ৩ হাজার শিশুর নমুনা নিয়ে আরও বড় একটি গবেষণা চলছে, যার ফলাফল নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশের ওপরে নেওয়া, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং প্রতি চার বছর পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ: তারেক রহমান

হামের টিকা অকার্যকর: ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হামের টিকা দেওয়ার পরও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠেনি। ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না এবং টিকা ও টিকাদানব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে।

আইইডিসিআর-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান পাবলিক হেলথ নেটওয়ার্ক ও ঢাকা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ১২ জন গবেষক ও কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ছয়টি উপশহর ও গ্রাম এলাকার ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩০৯টি শিশুকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টিকা কার্ড যাচাই এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে শিশুদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০৯টি শিশুর মধ্যে ২০৩টির বা ৬৫.৭ শতাংশের শরীরে হামের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ২১টি বা ৬.৮ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি বর্ডার লাইন বা সীমান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ৮৫টি শিশুর শরীরে কোনো অ্যান্টিবডিই তৈরি হয়নি, যা মোট নমুনার ২৭.৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের তুলনায় ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠার প্রবণতা বেশি।

টিকাবিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, টিকার কার্যকারিতা শিশুর বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৬ মাস বয়সে টিকা দিলে ১০০টির মধ্যে ৫০টির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে ১০০টির মধ্যে ৮৫টির এবং ১২ মাস বয়সে টিকা দিলে ৯০ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার কথা। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় প্রাপ্ত হার অনেক কম।

টিকাবিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারি জানান, টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রার হেরফের হলে টিকার মান পড়ে যেতে পারে। এছাড়া শিশু অতিমাত্রায় অপুষ্টির শিকার হলে টিকা কম কার্যকর হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ব্যবহৃত টিকার মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম-রুবেলার জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু পাঁচ মাস পরও সংক্রমণ থামেনি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩৮৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ১ হাজার ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের এবং ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এটি একটি ছোট গবেষণা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও বড় গবেষণা দরকার। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এস এম এ সাফি জানান, ৩০টি উপজেলার প্রতিটি থেকে ১০০ করে মোট ৩ হাজার শিশুর নমুনা নিয়ে আরও বড় একটি গবেষণা চলছে, যার ফলাফল নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশের ওপরে নেওয়া, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং প্রতি চার বছর পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।