লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির ফেরার গল্প: অশ্রু থেকে অমরত্বের পথে

ফুটবলের ইতিহাসে স্টেডিয়ামগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং এগুলো একেকটি স্মৃতির ভাণ্ডার হয়ে ওঠে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম লিওনেল মেসির জন্য ঠিক তেমনই এক জায়গা, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনার সাক্ষী হওয়ার পাশাপাশি এখন মহিমার মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

দশ বছর আগে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ সালের কোপা—টানা তিনটি ফাইনাল হারের পর সেই রাতে পরাজয়ের অসহ্য ভারে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বার্সেলোনায় সাফল্যের জোয়ারে ভাসলেও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা না পাওয়ার ব্যর্থতা তাকে গ্রাস করেছিল।

তবে কয়েক মাস পর সিদ্ধান্ত বদলে মেসি ফিরে আসেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার পুনর্জন্মের গল্প। তার প্রত্যাবর্তনের পর আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা এবং সবশেষে বিশ্বকাপ জয় করে। একসময়ের ব্যর্থতার প্রতীক মেসি এখন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় যুগের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

আজকের মেসি দশ বছর আগের সেই ক্লান্ত ও হতাশ মেসি নন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেসদের মতো সতীর্থদের সাথে তিনি এখন অনেক বেশি সুখী ও স্বচ্ছন্দ। এই পরিবর্তন কেবল কৌশলগত নয়, বরং মানসিক। এখন তার জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কোনো বোঝা নয়, বরং গর্বের বিষয়।

রবিবারের ফাইনালটি তাই কেবল একটি ম্যাচ নয়, এটি একটি পূর্ণ বৃত্তের গল্প। এক দশক আগে চোখের জলে যে মাঠ থেকে তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন, আজ সেই মাঠেই তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবেন। প্রতিপক্ষ স্পেন এবং এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে স্মৃতি ও বর্তমানের এক অনন্য সংলাপ। শেষ পর্যন্ত মেসির হাতে যদি আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে, তবে সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের এক পরিপূর্ণতার কাহিনি—একটি ক্ষত সেরে ওঠার মহাকাব্য, যা লক্ষ কোটি সমর্থকের স্মৃতিতে চিরকাল জীবন্ত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা আনতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির ফেরার গল্প: অশ্রু থেকে অমরত্বের পথে

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ফুটবলের ইতিহাসে স্টেডিয়ামগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং এগুলো একেকটি স্মৃতির ভাণ্ডার হয়ে ওঠে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম লিওনেল মেসির জন্য ঠিক তেমনই এক জায়গা, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনার সাক্ষী হওয়ার পাশাপাশি এখন মহিমার মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

দশ বছর আগে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ সালের কোপা—টানা তিনটি ফাইনাল হারের পর সেই রাতে পরাজয়ের অসহ্য ভারে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বার্সেলোনায় সাফল্যের জোয়ারে ভাসলেও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা না পাওয়ার ব্যর্থতা তাকে গ্রাস করেছিল।

তবে কয়েক মাস পর সিদ্ধান্ত বদলে মেসি ফিরে আসেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার পুনর্জন্মের গল্প। তার প্রত্যাবর্তনের পর আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা এবং সবশেষে বিশ্বকাপ জয় করে। একসময়ের ব্যর্থতার প্রতীক মেসি এখন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় যুগের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

আজকের মেসি দশ বছর আগের সেই ক্লান্ত ও হতাশ মেসি নন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেসদের মতো সতীর্থদের সাথে তিনি এখন অনেক বেশি সুখী ও স্বচ্ছন্দ। এই পরিবর্তন কেবল কৌশলগত নয়, বরং মানসিক। এখন তার জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কোনো বোঝা নয়, বরং গর্বের বিষয়।

রবিবারের ফাইনালটি তাই কেবল একটি ম্যাচ নয়, এটি একটি পূর্ণ বৃত্তের গল্প। এক দশক আগে চোখের জলে যে মাঠ থেকে তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন, আজ সেই মাঠেই তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবেন। প্রতিপক্ষ স্পেন এবং এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে স্মৃতি ও বর্তমানের এক অনন্য সংলাপ। শেষ পর্যন্ত মেসির হাতে যদি আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে, তবে সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের এক পরিপূর্ণতার কাহিনি—একটি ক্ষত সেরে ওঠার মহাকাব্য, যা লক্ষ কোটি সমর্থকের স্মৃতিতে চিরকাল জীবন্ত হয়ে থাকবে।