লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসি ও এমবাপের সম্ভাবনা কতটুকু

ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে। বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের ক্ষেত্রে ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বড় প্রভাব ফেলবে। তবে এখানেই তৈরি হয়েছে মূল জটিলতা; কারণ ক্লাব ফুটবলে যারা উজ্জ্বল ছিলেন, বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স ছিল মলিন। আবার বিশ্বকাপে যারা আলো ছড়িয়েছেন, ক্লাব পর্যায়ে তাদের পারফরম্যান্স ছিল নিম্নমুখী। এছাড়া ১০০ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোটের মাধ্যমে এই সেরা ফুটবলার নির্বাচন করা হবে এবং তাদের প্রদত্ত পয়েন্টেই নির্ধারিত হবে কে উঁচিয়ে ধরবেন বছরের সেরা ফুটবলারের এই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

কিলিয়ান এমবাপে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বেশ সোচ্চার। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার চুক্তিতে এই পুরস্কার জিতলে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বোনাস পাওয়ার ধারা রয়েছে, তাই তিনি প্রকাশ্যে নিজের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবির পক্ষে শক্তিশালী পরিসংখ্যানও রয়েছে; গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৪৪ ম্যাচে এমবাপে ৪২ গোল করেছেন এবং ৭টি গোল করিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বকাপ ও তার আগের পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিরতি মিলিয়ে ফ্রান্সের হয়ে তিনি করেছেন ১৬ গোল। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে, যা ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ—ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সমান। রিয়ালের হয়ে বড় ম্যাচগুলোতেও এমবাপে নিজের ছাপ রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন তিনি। লা লিগায় বার্সেলোনা ও আতলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দুই প্রতিযোগিতাতেই তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে যে তিনি অতিরিক্তভাবে নিজের গোলের দিকে মনোযোগী ছিলেন এবং রক্ষণে সহায়তা করতে তার অনীহার কারণে রিয়াল প্রায়ই রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরের সময় বিপদে পড়েছে। এছাড়া অভিষেক মৌসুমের মতো এবারও তিনি বাঁ দিকে সরে গিয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের জায়গা দখল করেছেন, ফলে পেনাল্টি এলাকায় রিয়াল মাদ্রিদ একজন নির্দিষ্ট আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হারিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জন্য এমবাপের চেয়ে আর্জেন্টিনার জন্য মেসি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এই সামগ্রিক প্রভাবই তাকে অতীতে আটটি ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে। এমনকি বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরই তার এই পুরস্কার জেতা উচিত ছিল, কারণ মাঠে আর্জেন্টিনার এই জাদুকরের প্রভাবের ধারেকাছেও কেউ যেতে পারেনি। আগামী মাসে রেকর্ড বাড়িয়ে নবম ব্যালন জিতলে সেটি হবে বড় চমক। কারণ পুরস্কারের জন্য ভোট দেওয়া প্যানেল ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলার কারণে তাকে কিছুটা পিছিয়ে রাখবে। বিবেচ্য সময়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ৩০ ম্যাচে মেসির ৫২ গোল ও অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য সম্মিলিত সংখ্যাটি তাই ভোটারদের কাছে খুব একটা গুরুত্ব পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসি ও এমবাপের সম্ভাবনা কতটুকু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে। বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের ক্ষেত্রে ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বড় প্রভাব ফেলবে। তবে এখানেই তৈরি হয়েছে মূল জটিলতা; কারণ ক্লাব ফুটবলে যারা উজ্জ্বল ছিলেন, বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স ছিল মলিন। আবার বিশ্বকাপে যারা আলো ছড়িয়েছেন, ক্লাব পর্যায়ে তাদের পারফরম্যান্স ছিল নিম্নমুখী। এছাড়া ১০০ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোটের মাধ্যমে এই সেরা ফুটবলার নির্বাচন করা হবে এবং তাদের প্রদত্ত পয়েন্টেই নির্ধারিত হবে কে উঁচিয়ে ধরবেন বছরের সেরা ফুটবলারের এই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

কিলিয়ান এমবাপে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বেশ সোচ্চার। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার চুক্তিতে এই পুরস্কার জিতলে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বোনাস পাওয়ার ধারা রয়েছে, তাই তিনি প্রকাশ্যে নিজের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবির পক্ষে শক্তিশালী পরিসংখ্যানও রয়েছে; গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৪৪ ম্যাচে এমবাপে ৪২ গোল করেছেন এবং ৭টি গোল করিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বকাপ ও তার আগের পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিরতি মিলিয়ে ফ্রান্সের হয়ে তিনি করেছেন ১৬ গোল। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে, যা ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ—ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সমান। রিয়ালের হয়ে বড় ম্যাচগুলোতেও এমবাপে নিজের ছাপ রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন তিনি। লা লিগায় বার্সেলোনা ও আতলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দুই প্রতিযোগিতাতেই তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে যে তিনি অতিরিক্তভাবে নিজের গোলের দিকে মনোযোগী ছিলেন এবং রক্ষণে সহায়তা করতে তার অনীহার কারণে রিয়াল প্রায়ই রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরের সময় বিপদে পড়েছে। এছাড়া অভিষেক মৌসুমের মতো এবারও তিনি বাঁ দিকে সরে গিয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের জায়গা দখল করেছেন, ফলে পেনাল্টি এলাকায় রিয়াল মাদ্রিদ একজন নির্দিষ্ট আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হারিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জন্য এমবাপের চেয়ে আর্জেন্টিনার জন্য মেসি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এই সামগ্রিক প্রভাবই তাকে অতীতে আটটি ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে। এমনকি বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরই তার এই পুরস্কার জেতা উচিত ছিল, কারণ মাঠে আর্জেন্টিনার এই জাদুকরের প্রভাবের ধারেকাছেও কেউ যেতে পারেনি। আগামী মাসে রেকর্ড বাড়িয়ে নবম ব্যালন জিতলে সেটি হবে বড় চমক। কারণ পুরস্কারের জন্য ভোট দেওয়া প্যানেল ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলার কারণে তাকে কিছুটা পিছিয়ে রাখবে। বিবেচ্য সময়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ৩০ ম্যাচে মেসির ৫২ গোল ও অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য সম্মিলিত সংখ্যাটি তাই ভোটারদের কাছে খুব একটা গুরুত্ব পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।