লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে এক নজিরবিহীন বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর দেয়া একটি সামরিক নির্দেশ বাস্তবায়নে সেনাপ্রধান আপত্তি জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নির্দেশের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চ্যানেল ১২-এর তথ্যানুযায়ী, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে জামির বাধা দিচ্ছেন এবং তিনি এই অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত লিখিত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর চেয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনে বিস্তারিত উল্লেখ না করা হলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তার মতে, এটি এমন এক সংবেদনশীল মুহূর্তের ঘটনা, যেখানে ভুল হিসাব-নিকাশের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইরান ইস্যুকে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে এক আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার তিক্ত পরিবেশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জামির যে ভূমিকা পালন করেছেন, ইতিহাস তা মনে রাখবে। এর আগে চ্যানেল ১৩ জানিয়েছিল, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো সামরিক প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। তিনি আরও বলেছেন, যদি এমন কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তবে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে চ্যানেল ১৪-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে একে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তিনি আইডিএফ ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সরকার উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে নেতানিয়াহু নতুন করে সংঘাত শুরুর চেষ্টা করছেন কি না, এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে থাকলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে এক নজিরবিহীন বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর দেয়া একটি সামরিক নির্দেশ বাস্তবায়নে সেনাপ্রধান আপত্তি জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নির্দেশের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চ্যানেল ১২-এর তথ্যানুযায়ী, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে জামির বাধা দিচ্ছেন এবং তিনি এই অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত লিখিত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর চেয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনে বিস্তারিত উল্লেখ না করা হলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তার মতে, এটি এমন এক সংবেদনশীল মুহূর্তের ঘটনা, যেখানে ভুল হিসাব-নিকাশের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইরান ইস্যুকে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে এক আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার তিক্ত পরিবেশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জামির যে ভূমিকা পালন করেছেন, ইতিহাস তা মনে রাখবে। এর আগে চ্যানেল ১৩ জানিয়েছিল, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো সামরিক প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। তিনি আরও বলেছেন, যদি এমন কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তবে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে চ্যানেল ১৪-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে একে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তিনি আইডিএফ ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সরকার উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে নেতানিয়াহু নতুন করে সংঘাত শুরুর চেষ্টা করছেন কি না, এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে থাকলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।