লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থলপথে রপ্তানি বন্ধে সংকটে পাবনার ঐতিহ্যবাহী হোসিয়ারিশিল্প

পাবনার ঐতিহ্যবাহী হোসিয়ারিশিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। স্থলপথে ভারতে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জেলার প্রায় তিন হাজার হোসিয়ারি কারখানার প্রায় ৬৫ শতাংশ শ্রমিক এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একসময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্পটির সাথে জড়িত উদ্যোক্তারা এখন ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল।

জেলা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারার্স গ্রুপের সভাপতি সেলিম সরদারের তথ্যমতে, দেশের মোট হোসিয়ারি পণ্যের ৬৫ শতাংশই পাবনা থেকে রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন প্রতিদিন পাওনাদারদের সঙ্গে মালিকদের বিরোধ বাড়ছে এবং একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং মালিক-শ্রমিকদের রক্ষায় দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রায় ২০০ বছর আগে পাবনায় এই শিল্পের গোড়াপত্তন হয় ইছামতী নদীর মাধ্যমে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কিছুটা ভাটা পড়লেও তাঁরা শিল্পটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিল্পটি প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে সুতার গেঞ্জির পরিবর্তে তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়ের গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন শুরু হয়। আগে প্রতি সপ্তাহে শতাধিক ট্রাক পণ্য স্থলপথে ভারতে যেত, যার মাধ্যমে দেড় থেকে দুই লাখ মার্কিন ডলার আয় হতো। বর্তমানে স্থলপথ বন্ধ থাকায় নৌপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। নৌপথে পণ্য পাঠাতে যেখানে আগে দুই-তিন দিনে কাজ হতো, এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগছে এবং পণ্যের মূল্য পেতে ৩০ থেকে ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, রপ্তানি বন্ধের ফলে পণ্যের উৎপাদন ও চাহিদা উভয়ই কমেছে। সাধুপাড়া মহল্লার এসবি রয়েল গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক মো. আশিক হোসেন জানান, আগে কাজের চাপে দম ফেলার সময় না থাকলেও এখন কর্মীর সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে সাতজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে জনি গার্মেন্টসের ক্ষেত্রেও, যেখানে ৫০০ শ্রমিক থেকে কমে বর্তমানে ২০০ জন কাজ করছেন। এছাড়া ঝুট কাপড় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম এবং মিরাজুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তারাও জানিয়েছেন যে, আগের মতো আর ব্যবসা নেই এবং গুদামভর্তি পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান এই সংকট নিরসনে সরকারের সদিচ্ছা ও স্থলপথে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, পাবনার ঐতিহ্যের ধারক এই শিল্পটিকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

স্থলপথে রপ্তানি বন্ধে সংকটে পাবনার ঐতিহ্যবাহী হোসিয়ারিশিল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পাবনার ঐতিহ্যবাহী হোসিয়ারিশিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। স্থলপথে ভারতে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জেলার প্রায় তিন হাজার হোসিয়ারি কারখানার প্রায় ৬৫ শতাংশ শ্রমিক এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একসময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্পটির সাথে জড়িত উদ্যোক্তারা এখন ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল।

জেলা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারার্স গ্রুপের সভাপতি সেলিম সরদারের তথ্যমতে, দেশের মোট হোসিয়ারি পণ্যের ৬৫ শতাংশই পাবনা থেকে রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন প্রতিদিন পাওনাদারদের সঙ্গে মালিকদের বিরোধ বাড়ছে এবং একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং মালিক-শ্রমিকদের রক্ষায় দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রায় ২০০ বছর আগে পাবনায় এই শিল্পের গোড়াপত্তন হয় ইছামতী নদীর মাধ্যমে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কিছুটা ভাটা পড়লেও তাঁরা শিল্পটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিল্পটি প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে সুতার গেঞ্জির পরিবর্তে তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়ের গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন শুরু হয়। আগে প্রতি সপ্তাহে শতাধিক ট্রাক পণ্য স্থলপথে ভারতে যেত, যার মাধ্যমে দেড় থেকে দুই লাখ মার্কিন ডলার আয় হতো। বর্তমানে স্থলপথ বন্ধ থাকায় নৌপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। নৌপথে পণ্য পাঠাতে যেখানে আগে দুই-তিন দিনে কাজ হতো, এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগছে এবং পণ্যের মূল্য পেতে ৩০ থেকে ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, রপ্তানি বন্ধের ফলে পণ্যের উৎপাদন ও চাহিদা উভয়ই কমেছে। সাধুপাড়া মহল্লার এসবি রয়েল গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক মো. আশিক হোসেন জানান, আগে কাজের চাপে দম ফেলার সময় না থাকলেও এখন কর্মীর সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে সাতজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে জনি গার্মেন্টসের ক্ষেত্রেও, যেখানে ৫০০ শ্রমিক থেকে কমে বর্তমানে ২০০ জন কাজ করছেন। এছাড়া ঝুট কাপড় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম এবং মিরাজুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তারাও জানিয়েছেন যে, আগের মতো আর ব্যবসা নেই এবং গুদামভর্তি পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান এই সংকট নিরসনে সরকারের সদিচ্ছা ও স্থলপথে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, পাবনার ঐতিহ্যের ধারক এই শিল্পটিকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।