লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও বাবা-মায়ের ভোগদখল নিশ্চিতের উদ্যোগ

সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন, এমন বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে আইনগত সহায়তা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলার একটি বড় অংশ সম্পত্তি বণ্টন ও হিসাব-নিকাশকেন্দ্রিক। বর্তমানে মুসলিম আইনে হেবা, অসিয়তনামা এবং হিন্দু আইনে উইলের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি হেবা করে দিলে মালিকানা হস্তান্তর হয়ে যায়, ফলে তারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা বাবা-মায়ের দেখাশোনা না করায় তারা অসহায় হয়ে পড়েন।

এই সংকট নিরসনে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের গিফট বা উপহার সংক্রান্ত ধারাটি আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে এই বিধান সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গিফটের ক্ষেত্রে 'ইউসুফ্রাক্ট রাইট' বা জীবনস্বত্ব রাখার সুযোগ যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাবা-মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রির প্রয়োজন হলে এবং সন্তান তাতে সম্মতি না দিলে জেলা জজকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। আবেদন করা হলে জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন। এই সংশোধনী কার্যকর হলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা হ্রাস পাবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপজুড়ে জেন-জি প্রজন্মের উত্তাল আন্দোলন: নেপথ্যে কী?

সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও বাবা-মায়ের ভোগদখল নিশ্চিতের উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন, এমন বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে আইনগত সহায়তা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলার একটি বড় অংশ সম্পত্তি বণ্টন ও হিসাব-নিকাশকেন্দ্রিক। বর্তমানে মুসলিম আইনে হেবা, অসিয়তনামা এবং হিন্দু আইনে উইলের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি হেবা করে দিলে মালিকানা হস্তান্তর হয়ে যায়, ফলে তারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা বাবা-মায়ের দেখাশোনা না করায় তারা অসহায় হয়ে পড়েন।

এই সংকট নিরসনে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের গিফট বা উপহার সংক্রান্ত ধারাটি আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে এই বিধান সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গিফটের ক্ষেত্রে 'ইউসুফ্রাক্ট রাইট' বা জীবনস্বত্ব রাখার সুযোগ যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাবা-মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রির প্রয়োজন হলে এবং সন্তান তাতে সম্মতি না দিলে জেলা জজকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। আবেদন করা হলে জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন। এই সংশোধনী কার্যকর হলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা হ্রাস পাবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।