লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে একে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের উদ্দেশ্যে গুম ও অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। সেই সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমতের ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সেই ফ্যাসিস্ট সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে সরকার পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে অনেকের সন্ধান মিললেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষ আজও নিখোঁজ। আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। এবারের গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল নাসরকে জিতিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৭৮

গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে একে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের উদ্দেশ্যে গুম ও অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। সেই সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমতের ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সেই ফ্যাসিস্ট সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে সরকার পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে অনেকের সন্ধান মিললেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষ আজও নিখোঁজ। আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। এবারের গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।