লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ২৭, তদন্তের নির্দেশ জেলেনস্কির

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি আবাসিক এলাকার পাশে অবস্থিত সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪২ জন। হামলার পর গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা দ্রুত চারপাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে কিয়েভের পশ্চিমে মিলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর একটি ড্রোন আঘাত হানে বা বিধ্বস্ত হয়। এরপরই সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়, যার জেরে শনিবারও সেখানে আগুন জ্বলছিল এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে রাশিয়া অন্তত ২৬৭টি ড্রোন এবং ২টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এর বেশিরভাগ ড্রোনই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। এদিকে গুদামটিতে ‘বিস্ফোরক বস্তু’ বেআইনিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা।

এই মর্মান্তিক হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে ৩০০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তবে ড্রোনের আঘাতের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। লোকালয় বা সাধারণ মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ মজুত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চরম নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা রোধে পুলিশের প্রতি নির্দেশ

কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ২৭, তদন্তের নির্দেশ জেলেনস্কির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি আবাসিক এলাকার পাশে অবস্থিত সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪২ জন। হামলার পর গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা দ্রুত চারপাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে কিয়েভের পশ্চিমে মিলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর একটি ড্রোন আঘাত হানে বা বিধ্বস্ত হয়। এরপরই সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়, যার জেরে শনিবারও সেখানে আগুন জ্বলছিল এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে রাশিয়া অন্তত ২৬৭টি ড্রোন এবং ২টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এর বেশিরভাগ ড্রোনই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। এদিকে গুদামটিতে ‘বিস্ফোরক বস্তু’ বেআইনিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা।

এই মর্মান্তিক হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে ৩০০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তবে ড্রোনের আঘাতের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। লোকালয় বা সাধারণ মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ মজুত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চরম নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি।