লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে উঁচুতে তুলে পানি ছাড়ার এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পানি ছাড়ার সময় হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান পানি ছাড়ার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দুপুরে তাঁর স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল হওয়ায় এবং পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় স্পিলওয়ের জলকপাটগুলো খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত মাসেও একইভাবে এই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল।

বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সচল থাকা পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াতেই প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে অতিরিক্ত আরও ৯ হাজার কিউসেক পানি যুক্ত হওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর ফলেই সৃষ্টি হয় বিশাল কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের। ১৯৬২ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে, যা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতে পারে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সূচনালগ্নে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সচল থাকা পাঁচটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে উঁচুতে তুলে পানি ছাড়ার এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পানি ছাড়ার সময় হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান পানি ছাড়ার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দুপুরে তাঁর স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল হওয়ায় এবং পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় স্পিলওয়ের জলকপাটগুলো খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত মাসেও একইভাবে এই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল।

বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সচল থাকা পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াতেই প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে অতিরিক্ত আরও ৯ হাজার কিউসেক পানি যুক্ত হওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর ফলেই সৃষ্টি হয় বিশাল কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের। ১৯৬২ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে, যা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতে পারে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সূচনালগ্নে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সচল থাকা পাঁচটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।