লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পদে রাজনীতিকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সরকারদলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি আদেশে বোয়েসেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও বিআইডব্লিউটিসি-সহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানে এক বছরের জন্য এসব নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদটি বাদে বাকি ১১টি পদই গ্রেড-২ মর্যাদার। বিগত সরকারের আমলে এসব পদে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবার সেখানে জায়গা করে নিচ্ছেন রাজনীতিকরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মো. সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের এমডি পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান পদে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে মো. কামরুজ্জামান, বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি পদে কাজী রওনাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. জাকির হোসেন, বিসিকের চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হাসানকে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত রয়েছেন। তবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় প্রশাসনের ক্যারিয়ার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক কর্মকর্তা ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি করেও অবসরের আগে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন অতিরিক্ত সচিবের মতে, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেন, সরকার প্রশাসনকে একটি প্রমিত কাঠামোতে দাঁড় করাতে চায় এবং বিশৃঙ্খলা দূর করতে চায়। তিনি জনকল্যাণে গৃহীত এই পদক্ষেপকে সংকীর্ণভাবে বিচার না করার আহ্বান জানান। এদিকে সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, দলনিরপেক্ষ আমলা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সরকার রাজনীতিকদের নিয়োগ দিয়ে নিরাপদ বোধ করছে। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া এই ধরনের নিয়োগের সমালোচনা করে বলেছেন, দলের বাইরের লোক দিয়ে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তার মতে, সরকারের উচিত দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নিয়োগ দেওয়া, যা প্রশাসনের চেহারা বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পদে রাজনীতিকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সরকারদলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি আদেশে বোয়েসেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও বিআইডব্লিউটিসি-সহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানে এক বছরের জন্য এসব নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদটি বাদে বাকি ১১টি পদই গ্রেড-২ মর্যাদার। বিগত সরকারের আমলে এসব পদে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবার সেখানে জায়গা করে নিচ্ছেন রাজনীতিকরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মো. সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের এমডি পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান পদে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে মো. কামরুজ্জামান, বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি পদে কাজী রওনাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. জাকির হোসেন, বিসিকের চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হাসানকে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত রয়েছেন। তবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় প্রশাসনের ক্যারিয়ার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক কর্মকর্তা ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি করেও অবসরের আগে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন অতিরিক্ত সচিবের মতে, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেন, সরকার প্রশাসনকে একটি প্রমিত কাঠামোতে দাঁড় করাতে চায় এবং বিশৃঙ্খলা দূর করতে চায়। তিনি জনকল্যাণে গৃহীত এই পদক্ষেপকে সংকীর্ণভাবে বিচার না করার আহ্বান জানান। এদিকে সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, দলনিরপেক্ষ আমলা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সরকার রাজনীতিকদের নিয়োগ দিয়ে নিরাপদ বোধ করছে। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া এই ধরনের নিয়োগের সমালোচনা করে বলেছেন, দলের বাইরের লোক দিয়ে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তার মতে, সরকারের উচিত দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নিয়োগ দেওয়া, যা প্রশাসনের চেহারা বদলে দিতে পারে।