লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার দায় স্বীকার ২ আসামির

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই যুবক। গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের এই দুই তরুণ গত রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেয়। মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে স্বীকার করেছে।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করায় তাদের আর নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। জবানবন্দি শেষে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম।

পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে তাদের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করছিল। শেষ রাতের দিকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠলে তাদের মাদক সেবন করতে দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন। তারা মাদক নেওয়ার বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আসামিরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় শব্দ পেয়ে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা ছাদে এলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও খুন করে তারা। সবশেষে ঘরে থাকা ১২ বছরের শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রিয়ম আসামিদের চিনে ফেলায় এবং ভবিষ্যতে ঘটনাটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ে তাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ওয়াশরুমে গোসল করে এবং সেখানে বসেই পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। এরপর ঘরের আসবাবপত্র ঘেঁটে গহনা লুট করে। সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করার সুবাদে আগুন দিয়ে গলিয়ে আসল সোনা শনাক্ত করে তারা। মাদকতার ভাব কমাতে তারা ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায় এবং ডাইনিংয়ে রাখা বয়ামের খেজুরও খায়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মানুষ যখন মসজিদে যায়, তখন তারা পাশের বাড়ির ছাদ ব্যবহার করে পালিয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মজীবনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার দায় স্বীকার ২ আসামির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই যুবক। গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের এই দুই তরুণ গত রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেয়। মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে স্বীকার করেছে।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করায় তাদের আর নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। জবানবন্দি শেষে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম।

পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে তাদের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করছিল। শেষ রাতের দিকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠলে তাদের মাদক সেবন করতে দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন। তারা মাদক নেওয়ার বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আসামিরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় শব্দ পেয়ে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা ছাদে এলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও খুন করে তারা। সবশেষে ঘরে থাকা ১২ বছরের শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রিয়ম আসামিদের চিনে ফেলায় এবং ভবিষ্যতে ঘটনাটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ে তাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ওয়াশরুমে গোসল করে এবং সেখানে বসেই পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। এরপর ঘরের আসবাবপত্র ঘেঁটে গহনা লুট করে। সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করার সুবাদে আগুন দিয়ে গলিয়ে আসল সোনা শনাক্ত করে তারা। মাদকতার ভাব কমাতে তারা ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায় এবং ডাইনিংয়ে রাখা বয়ামের খেজুরও খায়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মানুষ যখন মসজিদে যায়, তখন তারা পাশের বাড়ির ছাদ ব্যবহার করে পালিয়ে যায়।