লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং কবে নাগাদ এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই নিশ্চয়তা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে। বিগত দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল ফ্রন্টে জোরদার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউএনএইচসিআর, ইউএন ওমেন এবং ডব্লিউএফপি’র প্রতিনিধিদল কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতিও বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।

ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ কাজ করছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের সমন্বয়ে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছে। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোটি ডলারের কর্মসূচি

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং কবে নাগাদ এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই নিশ্চয়তা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে। বিগত দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল ফ্রন্টে জোরদার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউএনএইচসিআর, ইউএন ওমেন এবং ডব্লিউএফপি’র প্রতিনিধিদল কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতিও বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।

ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ কাজ করছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের সমন্বয়ে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছে। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।