লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের পরীক্ষা: লঙ্কার নিয়ম বদলাবে নাকি শুধু রাবণের মুখ?

‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ’—প্রবাদটি কি কেবলই গল্প নাকি ক্ষমতার নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতা? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি ও টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠার পর এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এখন এই প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করে তুলেছে যে, আসলেই কি ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে, নাকি কেবল রাবণের মুখই বদলেছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অঙ্কটি বিশাল—প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এত বড় অঙ্কের অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করাও গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। তাই এই অভিযোগের বিচার হতে হবে সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত commission নেওয়া এবং নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অর্থপাচারের অভিযোগগুলো আরও বেশি চাঞ্চল্যকর। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার দাবিও করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থের উৎস কী, তা খুঁজে বের করা দুদকের জন্য এক বড় পরীক্ষা। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে ব্যাংক হিসাব, সম্পদের মালিকানা, কোম্পানির নথি এবং অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড থাকার কথা। তাই দুদকের অনুসন্ধানটি সাধারণ কোনো তদন্ত নয়, এটি তাদের পেশাদারিত্ব প্রমাণের পরীক্ষা। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের জন্যও এটি রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। এই অভিযোগকে তিনি যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন, তবে তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে নথিপত্র সামনে আনাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।

এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার ১এমডিবি (1MDB) কেলেঙ্কারির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্কের অপব্যবহার করে কীভাবে দুর্নীতি চরম রূপ নিতে পারে, তা বিশ্ব দেখেছে মালয়েশিয়ায়। দেশটির এক সময়ের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককেও শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে, ক্ষমতা যত বড়ই হোক না কেন, তা কখনো জবাবদিহির ঊর্ধ্বে হতে পারে না। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছিলেন, "I never compromise on the issue of corruption." বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই কথার অর্থ হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দলের, জনপ্রিয় বা আন্দোলনের কোনো চেনা মুখ কি না, তা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা।

দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে কাজ করে, তবে তা আর স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থাকে না, বরং ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়। মালয়েশিয়ার প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদের একটি বিখ্যাত উক্তি এখানে স্মরণ করা যায়: "When you have a prime minister who is corrupt, then you can be sure that a country cannot be anything else but corrupt." শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি জেঁকে বসলে তা পুরো ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন ঘুষ আর কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ থাকে না, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। বাংলাদেশের মানুষের মূল ভয় এখানেই—নতুন মুখ এলেও পুরোনো সংস্কৃতি কি রয়েই যাবে?

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সামনে এসেছে, তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি ছিল নৈতিক অবস্থান। লুটপাট, দখলদারিত্ব, নিয়োগ-বাণিজ্য ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট অবস্থান ছিল। তাই নতুন কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত হানে। মানুষ তখন প্রশ্ন তোলে, আমরা কি সত্যিই নতুন কোনো রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি, নাকি পুরোনো ব্যবস্থারই একটি নতুন সংস্করণ দেখছি? এখানে কোনো আবেগের বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। আসিফ মাহমুদ যদি দোষী হন, তবে his আইনের মুখোমুখি হতে হবে; আর নির্দোষ হলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে সসম্মানে দায়মুক্ত করতে হবে।

আইনের চোখে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ঢাল হতে পারে না, আবার বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়ও অপরাধের প্রমাণ নয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। দুর্নীতিবিরোধী লড়াই তখনই ব্যর্থ হয়, যখন রাষ্ট্রের কাছে 'নিজের লোক' ও 'অন্যের লোক'-এর জন্য আলাদা মাপকাঠি তৈরি হয়। নিজের লোকের বেলায় ষড়যন্ত্র আর প্রতিপক্ষের বেলায় দুর্নীতির প্রমাণ—এই বাছাইমূলক ন্যায়বিচার কেবল দুর্নীতির মালিকানা বদল করে, দুর্নীতি কমায় না। দুদককে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না। নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন আর বদলি-পদায়নে দরদাম যদি চলতেই থাকে, তবে পরিবর্তনের অর্থ অর্থহীন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, প্রশ্নটি হলো ব্যবস্থার। আমরা কি কেবল রাবণের মুখ বদলাতে চাই, নাকি লঙ্কার নিয়মটাই বদলে দিতে চাই—সেটাই হবে নতুন বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা।

ইত্তিহাদে ম্যান সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো ব্রাইটন

আসিফ মাহমুদের পরীক্ষা: লঙ্কার নিয়ম বদলাবে নাকি শুধু রাবণের মুখ?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ’—প্রবাদটি কি কেবলই গল্প নাকি ক্ষমতার নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতা? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি ও টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠার পর এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এখন এই প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করে তুলেছে যে, আসলেই কি ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে, নাকি কেবল রাবণের মুখই বদলেছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অঙ্কটি বিশাল—প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এত বড় অঙ্কের অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করাও গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। তাই এই অভিযোগের বিচার হতে হবে সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত commission নেওয়া এবং নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অর্থপাচারের অভিযোগগুলো আরও বেশি চাঞ্চল্যকর। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার দাবিও করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থের উৎস কী, তা খুঁজে বের করা দুদকের জন্য এক বড় পরীক্ষা। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে ব্যাংক হিসাব, সম্পদের মালিকানা, কোম্পানির নথি এবং অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড থাকার কথা। তাই দুদকের অনুসন্ধানটি সাধারণ কোনো তদন্ত নয়, এটি তাদের পেশাদারিত্ব প্রমাণের পরীক্ষা। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের জন্যও এটি রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। এই অভিযোগকে তিনি যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন, তবে তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে নথিপত্র সামনে আনাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।

এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার ১এমডিবি (1MDB) কেলেঙ্কারির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্কের অপব্যবহার করে কীভাবে দুর্নীতি চরম রূপ নিতে পারে, তা বিশ্ব দেখেছে মালয়েশিয়ায়। দেশটির এক সময়ের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককেও শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে, ক্ষমতা যত বড়ই হোক না কেন, তা কখনো জবাবদিহির ঊর্ধ্বে হতে পারে না। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছিলেন, "I never compromise on the issue of corruption." বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই কথার অর্থ হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দলের, জনপ্রিয় বা আন্দোলনের কোনো চেনা মুখ কি না, তা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা।

দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে কাজ করে, তবে তা আর স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থাকে না, বরং ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়। মালয়েশিয়ার প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদের একটি বিখ্যাত উক্তি এখানে স্মরণ করা যায়: "When you have a prime minister who is corrupt, then you can be sure that a country cannot be anything else but corrupt." শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি জেঁকে বসলে তা পুরো ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন ঘুষ আর কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ থাকে না, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। বাংলাদেশের মানুষের মূল ভয় এখানেই—নতুন মুখ এলেও পুরোনো সংস্কৃতি কি রয়েই যাবে?

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সামনে এসেছে, তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি ছিল নৈতিক অবস্থান। লুটপাট, দখলদারিত্ব, নিয়োগ-বাণিজ্য ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট অবস্থান ছিল। তাই নতুন কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত হানে। মানুষ তখন প্রশ্ন তোলে, আমরা কি সত্যিই নতুন কোনো রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি, নাকি পুরোনো ব্যবস্থারই একটি নতুন সংস্করণ দেখছি? এখানে কোনো আবেগের বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। আসিফ মাহমুদ যদি দোষী হন, তবে his আইনের মুখোমুখি হতে হবে; আর নির্দোষ হলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে সসম্মানে দায়মুক্ত করতে হবে।

আইনের চোখে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ঢাল হতে পারে না, আবার বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়ও অপরাধের প্রমাণ নয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। দুর্নীতিবিরোধী লড়াই তখনই ব্যর্থ হয়, যখন রাষ্ট্রের কাছে 'নিজের লোক' ও 'অন্যের লোক'-এর জন্য আলাদা মাপকাঠি তৈরি হয়। নিজের লোকের বেলায় ষড়যন্ত্র আর প্রতিপক্ষের বেলায় দুর্নীতির প্রমাণ—এই বাছাইমূলক ন্যায়বিচার কেবল দুর্নীতির মালিকানা বদল করে, দুর্নীতি কমায় না। দুদককে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না। নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন আর বদলি-পদায়নে দরদাম যদি চলতেই থাকে, তবে পরিবর্তনের অর্থ অর্থহীন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, প্রশ্নটি হলো ব্যবস্থার। আমরা কি কেবল রাবণের মুখ বদলাতে চাই, নাকি লঙ্কার নিয়মটাই বদলে দিতে চাই—সেটাই হবে নতুন বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা।