লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেউতা সংকট: ইইউ’র জরুরি বৈঠক চাইলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি অভিযোগ করেন, সেউতার ঘটনা নিয়ে ইইউ’র বেশ কয়েকটি সদস্যদেশের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক এবং আইনবিরোধী’।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মরক্কো থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় অনুপ্রবেশ করেন। এই ভয়াবহ অভিবাসী ঢলের সময় অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ বা ব্রেকওয়াটার পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা প্রায় সবাইকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে তাদের অননুমোদিত যাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

সেউতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পেনের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পেন সরকারের অতীতে নেয়া একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, ১০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধতা দেয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ভুল’ এবং এটি মানবপাচারকে উৎসাহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইতালি শুক্রবার ঘোষণা দেয় যে, তারা স্পেনের সঙ্গে শেনজেন মুক্ত চলাচল ব্যবস্থার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘একজন দায়িত্বশীল নেতার জন্য শোভন নয়’ বলে অভিহিত করেন এবং ইতালির বিরুদ্ধে ‘দলীয় স্বার্থে জনমত উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন।

বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সদস্যদেশ সংহতি প্রকাশ করলেও কয়েকটি দেশ স্পেনকে আক্রমণ করেছে এবং শেনজেন এলাকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সানচেজ লিখেছেন, পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে পরিচালিত এমন মনোভাব ইউরোপীয় আইন, মানবিক আইন এবং পারস্পরিক সংহতির নীতির পরিপন্থী। ফ্রন্টেক্সের তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের বহিঃসীমান্তগুলোর মধ্যে স্পেনের সীমান্ত অন্যতম নিরাপদ এবং ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইতালির তুলনায় স্পেনে অনিয়মিত প্রবেশের হার প্রায় অর্ধেক।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ পূরণে হল সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সেউতা সংকট: ইইউ’র জরুরি বৈঠক চাইলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি অভিযোগ করেন, সেউতার ঘটনা নিয়ে ইইউ’র বেশ কয়েকটি সদস্যদেশের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক এবং আইনবিরোধী’।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মরক্কো থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় অনুপ্রবেশ করেন। এই ভয়াবহ অভিবাসী ঢলের সময় অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ বা ব্রেকওয়াটার পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা প্রায় সবাইকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে তাদের অননুমোদিত যাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

সেউতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পেনের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পেন সরকারের অতীতে নেয়া একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, ১০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধতা দেয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ভুল’ এবং এটি মানবপাচারকে উৎসাহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইতালি শুক্রবার ঘোষণা দেয় যে, তারা স্পেনের সঙ্গে শেনজেন মুক্ত চলাচল ব্যবস্থার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘একজন দায়িত্বশীল নেতার জন্য শোভন নয়’ বলে অভিহিত করেন এবং ইতালির বিরুদ্ধে ‘দলীয় স্বার্থে জনমত উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন।

বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সদস্যদেশ সংহতি প্রকাশ করলেও কয়েকটি দেশ স্পেনকে আক্রমণ করেছে এবং শেনজেন এলাকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সানচেজ লিখেছেন, পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে পরিচালিত এমন মনোভাব ইউরোপীয় আইন, মানবিক আইন এবং পারস্পরিক সংহতির নীতির পরিপন্থী। ফ্রন্টেক্সের তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের বহিঃসীমান্তগুলোর মধ্যে স্পেনের সীমান্ত অন্যতম নিরাপদ এবং ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইতালির তুলনায় স্পেনে অনিয়মিত প্রবেশের হার প্রায় অর্ধেক।