লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিকা হত্যা: আসল দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, আগের গ্রেপ্তারকৃতরা নির্দোষ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) হত্যার ঘটনায় প্রকৃত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে নামে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে র‌্যাব (বর্তমান এসআরবি) এই ঘটনায় মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি করেছিল। তবে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগের গ্রেপ্তারকৃতরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় এবং র‌্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটিও এই অপরাধে ব্যবহৃত হয়নি। তিনি বলেন, কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা তদন্তের একটি স্বাভাবিক অংশ। তদন্ত শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় না, তাদের বাদ দেওয়া হয়।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মিরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানায়, ছিনতাইয়ের সময় সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিল এবং ভুক্তভোগীর ব্যাগে টান দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিহত শিক্ষিকার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতর তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

এরপর ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চালানো রাজিব মাতুব্বরকে বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জয়নাবপুর/জামানপাড়া এলাকার একটি স্থান থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬২২ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে মামলাসহ মোট ৮টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা ঢাকার অন্য কোনো ছিনতাই বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯শে আগস্ট সকালে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামীর সঙ্গে রিকশাযোগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউর পূর্বপ্রান্তে ১২নং গেইট পার হয়ে খেজুর বাগান অভিমুখী রাস্তায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারী খোকন ও রাজীব তাদের পিছু নেয়। খেজুর বাগানের সামনে পৌঁছা মাত্রই মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন ভিকটিমের হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে রনজিলা পারভিন ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ৩০ আগস্ট বিকালে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান দাবি করেন, স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামি মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। এসময় ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করার দাবি করা হয়।

যদিও, পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছিল, পনির বিরুদ্ধে ডিএমপির হাতিরঝিল, আদাবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস কাউন্সিল গঠনে আগ্রহী মস্কো

শিক্ষিকা হত্যা: আসল দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, আগের গ্রেপ্তারকৃতরা নির্দোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) হত্যার ঘটনায় প্রকৃত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে নামে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে র‌্যাব (বর্তমান এসআরবি) এই ঘটনায় মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি করেছিল। তবে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগের গ্রেপ্তারকৃতরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় এবং র‌্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটিও এই অপরাধে ব্যবহৃত হয়নি। তিনি বলেন, কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা তদন্তের একটি স্বাভাবিক অংশ। তদন্ত শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় না, তাদের বাদ দেওয়া হয়।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মিরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানায়, ছিনতাইয়ের সময় সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিল এবং ভুক্তভোগীর ব্যাগে টান দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিহত শিক্ষিকার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতর তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

এরপর ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চালানো রাজিব মাতুব্বরকে বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জয়নাবপুর/জামানপাড়া এলাকার একটি স্থান থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬২২ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে মামলাসহ মোট ৮টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা ঢাকার অন্য কোনো ছিনতাই বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯শে আগস্ট সকালে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামীর সঙ্গে রিকশাযোগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউর পূর্বপ্রান্তে ১২নং গেইট পার হয়ে খেজুর বাগান অভিমুখী রাস্তায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারী খোকন ও রাজীব তাদের পিছু নেয়। খেজুর বাগানের সামনে পৌঁছা মাত্রই মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন ভিকটিমের হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে রনজিলা পারভিন ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ৩০ আগস্ট বিকালে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান দাবি করেন, স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামি মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। এসময় ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করার দাবি করা হয়।

যদিও, পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছিল, পনির বিরুদ্ধে ডিএমপির হাতিরঝিল, আদাবর