লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, দাবি ডনাল্ড ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টানা তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের হামলা বা পাল্টা হামলার ঘটনা না ঘটার পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন। সোমবার প্রেসিডেন্টদের বিশেষ উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ভালো কিছু ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটি সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চলমান এই আলোচনা যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে।

অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে বলে অনলাইন বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কিছু দেশ আলোচনার জন্য আরেকটি সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করায় গত শুক্রবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে ইরানও তাদের হামলা বন্ধ রাখে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর বিপরীতে পাল্টা আক্রমণের পর এই প্রথম সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি বিরতি এল। এর আগে গত জুন মাসে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেখানে হুমকি তৈরি করার মতো ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়াই ছিল তাদের হামলার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট। সংঘাত কমে আসার এই আশার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ৯ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে।

এদিকে, দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ রয়েছে। মাঝারি পর্যায়ের অস্ত্রও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা যতই ব্যবহার করা হোক না কেন তা শেষ হওয়ার মতো নয়। তবুও আমি চাই আমাদের কাছে আরও বেশি মজুত থাকুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুত তৈরি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর বিশাল মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমস্ত কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সময় বাড়ল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত

ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, দাবি ডনাল্ড ট্রাম্পের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টানা তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের হামলা বা পাল্টা হামলার ঘটনা না ঘটার পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন। সোমবার প্রেসিডেন্টদের বিশেষ উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ভালো কিছু ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটি সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চলমান এই আলোচনা যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে।

অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে বলে অনলাইন বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কিছু দেশ আলোচনার জন্য আরেকটি সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করায় গত শুক্রবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে ইরানও তাদের হামলা বন্ধ রাখে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর বিপরীতে পাল্টা আক্রমণের পর এই প্রথম সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি বিরতি এল। এর আগে গত জুন মাসে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেখানে হুমকি তৈরি করার মতো ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়াই ছিল তাদের হামলার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট। সংঘাত কমে আসার এই আশার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ৯ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে।

এদিকে, দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ রয়েছে। মাঝারি পর্যায়ের অস্ত্রও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা যতই ব্যবহার করা হোক না কেন তা শেষ হওয়ার মতো নয়। তবুও আমি চাই আমাদের কাছে আরও বেশি মজুত থাকুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুত তৈরি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর বিশাল মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমস্ত কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।