লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর আস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের, চুক্তি মানা নিয়ে সংশয় রুবিওর

ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তারা তা শেষ পর্যন্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আসিয়ান সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরানের ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দেন। মূলত ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের যে কোনো আস্থা নেই, রুবিওর এই কড়া বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, নতুন কোনো চুক্তি হলেও ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের কূটনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন কাতারস্থ জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল মাসগ্রেভ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুবিওর বক্তব্যটি অত্যন্ত বাকপটু হলেও কিছুটা গতানুগতিক ও নিস্তেজ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনমনীয় মনোভাব শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

মাসগ্রেভ আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনীতির পথ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন ওয়াশিংটন থেকে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য ও বানোয়াট অভিযোগ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, এ ধরনের জটিল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তিনি সাধারণত খুব একটা আশাবাদী হতে পারেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এই বক্তব্যের পর চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে তার সংশয় ও আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের যানবাহনে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানের ওপর আস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের, চুক্তি মানা নিয়ে সংশয় রুবিওর

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তারা তা শেষ পর্যন্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আসিয়ান সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরানের ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দেন। মূলত ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের যে কোনো আস্থা নেই, রুবিওর এই কড়া বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, নতুন কোনো চুক্তি হলেও ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের কূটনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন কাতারস্থ জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল মাসগ্রেভ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুবিওর বক্তব্যটি অত্যন্ত বাকপটু হলেও কিছুটা গতানুগতিক ও নিস্তেজ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনমনীয় মনোভাব শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

মাসগ্রেভ আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনীতির পথ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন ওয়াশিংটন থেকে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য ও বানোয়াট অভিযোগ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, এ ধরনের জটিল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তিনি সাধারণত খুব একটা আশাবাদী হতে পারেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এই বক্তব্যের পর চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে তার সংশয় ও আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।