লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বাজারে সবজিতে স্বস্তি থাকলেও চড়া ডিম ও মুরগির দাম

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। পাইকারি বাজার থেকে নিয়মিত পণ্য আসায় সবজির দাম বড় ধরনের ওঠানামা করেনি। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সবজির বাজারে এই স্বস্তি থাকলেও ডিম ও মুরগির চড়া দাম ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খামারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামার থেকে যেভাবে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, সেভাবেই তাদের বিক্রি করতে হয়। ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া প্রতি ডজন লেয়ার ডিম ৩৬০ টাকা এবং ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আরও চড়া।

বাজারে মাংসের দামে কোনো ছাড় নেই। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বেশ চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইলিশের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছের দাম কেজিতে হাজার টাকার উপরে রয়েছে। তবে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।

রায়ের বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন জানান, বড় মাছের দাম সবসময়ই কিছুটা বেশি থাকে কারণ এগুলো সামর্থ্যবান ক্রেতাদের পণ্য, তবে ইলিশের বর্তমান দাম অস্বাভাবিক। যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা সোমা আক্তার ও গৃহিণী আকলিমা আক্তার জানান, সবজির দাম সহনীয় হলেও ডিম ও মুরগির উচ্চমূল্য তাদের সংসারের খরচ কমিয়ে আনতে বাধা দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে ডিম ও মুরগির বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের গায়ে যেন হাত দেওয়া যায় না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা সোমা আক্তার বলেন, ‘সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আছে। ৫০-৬০ টাকার মধ্যে বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ডিম আর মুরগির দাম বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ কমছে না।’

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

রাজধানীর বাজারে সবজিতে স্বস্তি থাকলেও চড়া ডিম ও মুরগির দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। পাইকারি বাজার থেকে নিয়মিত পণ্য আসায় সবজির দাম বড় ধরনের ওঠানামা করেনি। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সবজির বাজারে এই স্বস্তি থাকলেও ডিম ও মুরগির চড়া দাম ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খামারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামার থেকে যেভাবে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, সেভাবেই তাদের বিক্রি করতে হয়। ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া প্রতি ডজন লেয়ার ডিম ৩৬০ টাকা এবং ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আরও চড়া।

বাজারে মাংসের দামে কোনো ছাড় নেই। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বেশ চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইলিশের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছের দাম কেজিতে হাজার টাকার উপরে রয়েছে। তবে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।

রায়ের বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন জানান, বড় মাছের দাম সবসময়ই কিছুটা বেশি থাকে কারণ এগুলো সামর্থ্যবান ক্রেতাদের পণ্য, তবে ইলিশের বর্তমান দাম অস্বাভাবিক। যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা সোমা আক্তার ও গৃহিণী আকলিমা আক্তার জানান, সবজির দাম সহনীয় হলেও ডিম ও মুরগির উচ্চমূল্য তাদের সংসারের খরচ কমিয়ে আনতে বাধা দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে ডিম ও মুরগির বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের গায়ে যেন হাত দেওয়া যায় না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা সোমা আক্তার বলেন, ‘সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আছে। ৫০-৬০ টাকার মধ্যে বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ডিম আর মুরগির দাম বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ কমছে না।’