লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ বাড়ল চার বছর

তীব্র বিরোধিতা এবং বিভিন্ন দেশের আপত্তির মুখেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৪৪টি দেশ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে ১০টি দেশ ভোট প্রদান করে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বর্তমান মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা থাকায় গুতেরেস তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ভলকার তুর্কই প্রথম মানবাধিকার প্রধান হিসেবে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের নজির গড়বেন।

ভোটের আগে রাশিয়া একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ভলকার তুর্কের মেয়াদ মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ সদস্য রাশিয়ার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এদিকে, ভলকার তুর্কের পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল। ভোটের আগেই ওয়াশিংটন জাতিসংঘে তাদের অর্থায়ন ও সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়নের হুমকি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক প্রতিনিধি জেফ বার্টোস দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অনিয়ম ও গোপন সমঝোতা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ভোট আয়োজনের সমালোচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি চুমাকভ অভিযোগ করেন যে, ভলকার তুর্ক রাশিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আসছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর মানবাধিকার প্রধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ এবং লাতিন আমেরিকার অনেক রাষ্ট্র ভলকার তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। চীনও তার পুনর্নিয়োগকে সমর্থন করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার যখন হুমকির মুখে, তখন এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন যিনি চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্তের আহ্বান জানানোয় ভলকার তুর্ক বিভিন্ন সময় শক্তিশালী দেশগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সময় বাড়ল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ বাড়ল চার বছর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

তীব্র বিরোধিতা এবং বিভিন্ন দেশের আপত্তির মুখেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৪৪টি দেশ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে ১০টি দেশ ভোট প্রদান করে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বর্তমান মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা থাকায় গুতেরেস তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ভলকার তুর্কই প্রথম মানবাধিকার প্রধান হিসেবে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের নজির গড়বেন।

ভোটের আগে রাশিয়া একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ভলকার তুর্কের মেয়াদ মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ সদস্য রাশিয়ার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এদিকে, ভলকার তুর্কের পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল। ভোটের আগেই ওয়াশিংটন জাতিসংঘে তাদের অর্থায়ন ও সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়নের হুমকি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক প্রতিনিধি জেফ বার্টোস দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অনিয়ম ও গোপন সমঝোতা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ভোট আয়োজনের সমালোচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি চুমাকভ অভিযোগ করেন যে, ভলকার তুর্ক রাশিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আসছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর মানবাধিকার প্রধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ এবং লাতিন আমেরিকার অনেক রাষ্ট্র ভলকার তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। চীনও তার পুনর্নিয়োগকে সমর্থন করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার যখন হুমকির মুখে, তখন এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন যিনি চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্তের আহ্বান জানানোয় ভলকার তুর্ক বিভিন্ন সময় শক্তিশালী দেশগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।