লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন্ন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন পেলেন ইয়াহিয়া জিসান

আসন্ন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন পেলেন ইয়াহিয়া জিসান

স্টাফ রিপোর্টার:

আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া আসনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ইয়াহিয়া জিসান এই নির্বাচনে এনসিপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ধুপখালীর সন্তান জিসানের মনোনয়ন পাওয়ার খবরে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নতুন প্রজন্মের এই রাজনীতি।

ইয়াহিয়া জিসান মূলত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেলের সদস্য হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর তিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি-এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সেলেও তার রয়েছে জোরালো ভূমিকা।

জিসানের বেড়ে ওঠা বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ধুপখালী গ্রামে। স্থানীয় ধুপখালী দাখিল মাদ্রাসা থেকে জেডিসি এবং দাখিল—উভয় পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরপর খুলনার স্বনামধন্য দারুল কোরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি পেশাগত জীবনে প্রবেশের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তার সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পেশাগত এই ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত এলাকায় মানবিক সেবা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাঘারপাড়া উপজেলায় গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং আন্দোলনের মাঠ থেকে উঠে আসা তরুণ প্রার্থীর আগমন ভোটারদের মধ্যে নতুন ভাবনার উদ্রেক করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ভোটারদের মধ্যে জিসানের একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জিসানের ক্লিন ইমেজ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই দলটি বাঘারপাড়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তৃণমূলের মানুষের কাছে ‘ধুপখালীর সন্তান’ হিসেবে পরিচিত জিসান এখন তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণার তারিখ ঘোষণা হওয়ার আগেই এনসিপির এই মনোনয়ন ঘোষণা এলাকায় নির্বাচনী হাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। জিসান তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি একটি বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চান।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: দুই দশক পরও নির্বাচনকালীন সরকারে আস্থার সংকট

আসন্ন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন পেলেন ইয়াহিয়া জিসান

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আসন্ন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন পেলেন ইয়াহিয়া জিসান

স্টাফ রিপোর্টার:

আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া আসনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ইয়াহিয়া জিসান এই নির্বাচনে এনসিপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ধুপখালীর সন্তান জিসানের মনোনয়ন পাওয়ার খবরে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নতুন প্রজন্মের এই রাজনীতি।

ইয়াহিয়া জিসান মূলত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেলের সদস্য হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর তিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি-এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সেলেও তার রয়েছে জোরালো ভূমিকা।

জিসানের বেড়ে ওঠা বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ধুপখালী গ্রামে। স্থানীয় ধুপখালী দাখিল মাদ্রাসা থেকে জেডিসি এবং দাখিল—উভয় পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরপর খুলনার স্বনামধন্য দারুল কোরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি পেশাগত জীবনে প্রবেশের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তার সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পেশাগত এই ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত এলাকায় মানবিক সেবা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাঘারপাড়া উপজেলায় গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং আন্দোলনের মাঠ থেকে উঠে আসা তরুণ প্রার্থীর আগমন ভোটারদের মধ্যে নতুন ভাবনার উদ্রেক করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ভোটারদের মধ্যে জিসানের একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জিসানের ক্লিন ইমেজ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই দলটি বাঘারপাড়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তৃণমূলের মানুষের কাছে ‘ধুপখালীর সন্তান’ হিসেবে পরিচিত জিসান এখন তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণার তারিখ ঘোষণা হওয়ার আগেই এনসিপির এই মনোনয়ন ঘোষণা এলাকায় নির্বাচনী হাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। জিসান তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি একটি বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চান।