লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনস্টাগ্রাম কি আসলেই মানুষকে আসক্ত বানাচ্ছে? আদালতের কাঠগড়ায় সিইও-র বিস্ফোরক বক্তব্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক | টেক ডেস্ক

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু এই রঙিন দুনিয়ার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো অন্ধকার গলি? সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের “অ্যাডিকশন” বা আসক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল বিতর্ক। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, স্বয়ং মেটা (ইনস্টাগ্রামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান) প্রধান বা সিইও-কে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কি ঘটেছিল আদালতে?

সম্প্রতি এক শুনানিতে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এবং এটি শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে দীর্ঘ জেরা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ইনস্টাগ্রামের ফিচারগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করতে বাধ্য হয়। আদালতে সিইও-র বক্তব্য ছিল আত্মপক্ষ সমর্থনের, তবে তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আসক্তির নেপথ্যে কি বিশেষ কোনো প্রযুক্তি?

গবেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামের ‘রিলস’ এবং ‘এক্সপ্লোর’ ফিড এমনভাবে তৈরি যা মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এটি অনেকটা জুয়া খেলার মতো—প্রতিবার স্ক্রল করলেই নতুন কিছু পাওয়ার আশায় মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

সিইও-র যুক্তি ও বাস্তবতা

আদালতে সিইও দাবি করেন, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য ‘Take a Break’ এবং ‘Parental Control’ এর মতো ফিচার যুক্ত করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এগুলো শুধুমাত্র আইওয়াশ। মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীকে অ্যাপের ভেতরে আটকে রাখা।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “ইনস্টাগ্রাম অ্যাডিকশন” এখন কোনো কাল্পনিক সমস্যা নয়। এটি বিষণ্ণতা, একাকীত্ব এবং ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জীবনের সাথে অন্যদের ‘পারফেক্ট’ জীবনের তুলনা করতে গিয়ে অনেক তরুণ-তরুণী হীনম্মন্যতায় ভুগছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে

ইনস্টাগ্রাম কি আসলেই মানুষকে আসক্ত বানাচ্ছে? আদালতের কাঠগড়ায় সিইও-র বিস্ফোরক বক্তব্য!

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | টেক ডেস্ক

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু এই রঙিন দুনিয়ার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো অন্ধকার গলি? সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের “অ্যাডিকশন” বা আসক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল বিতর্ক। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, স্বয়ং মেটা (ইনস্টাগ্রামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান) প্রধান বা সিইও-কে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কি ঘটেছিল আদালতে?

সম্প্রতি এক শুনানিতে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এবং এটি শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে দীর্ঘ জেরা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ইনস্টাগ্রামের ফিচারগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করতে বাধ্য হয়। আদালতে সিইও-র বক্তব্য ছিল আত্মপক্ষ সমর্থনের, তবে তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আসক্তির নেপথ্যে কি বিশেষ কোনো প্রযুক্তি?

গবেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামের ‘রিলস’ এবং ‘এক্সপ্লোর’ ফিড এমনভাবে তৈরি যা মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এটি অনেকটা জুয়া খেলার মতো—প্রতিবার স্ক্রল করলেই নতুন কিছু পাওয়ার আশায় মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

সিইও-র যুক্তি ও বাস্তবতা

আদালতে সিইও দাবি করেন, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য ‘Take a Break’ এবং ‘Parental Control’ এর মতো ফিচার যুক্ত করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এগুলো শুধুমাত্র আইওয়াশ। মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীকে অ্যাপের ভেতরে আটকে রাখা।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “ইনস্টাগ্রাম অ্যাডিকশন” এখন কোনো কাল্পনিক সমস্যা নয়। এটি বিষণ্ণতা, একাকীত্ব এবং ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জীবনের সাথে অন্যদের ‘পারফেক্ট’ জীবনের তুলনা করতে গিয়ে অনেক তরুণ-তরুণী হীনম্মন্যতায় ভুগছে।