লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়াল

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যখন বড় একটি অংশ সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আমানত রাখার প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট হিসাবের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে মার্চ শেষে এই হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি এবং আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি এবং আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা যেখানে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বিত্তশালী ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় ও আমানত বাড়ছে। এটি দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈপরীত্যকে নতুন করে আলোচনার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসায় সামগ্রিক আমানত বাড়ছে, যার পাশাপাশি বড় ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ, এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা থাকতে পারে। এছাড়া একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে, ফলে হিসাবের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা এক নয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৪৩টি, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে পৌঁছায়। পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা ১ লাখ ৯৪৬টি, ২০২২ সালের শেষে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে দাঁড়িয়েছিল। সবশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়াল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যখন বড় একটি অংশ সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আমানত রাখার প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট হিসাবের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে মার্চ শেষে এই হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি এবং আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি এবং আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা যেখানে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বিত্তশালী ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় ও আমানত বাড়ছে। এটি দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈপরীত্যকে নতুন করে আলোচনার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসায় সামগ্রিক আমানত বাড়ছে, যার পাশাপাশি বড় ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ, এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা থাকতে পারে। এছাড়া একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে, ফলে হিসাবের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা এক নয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৪৩টি, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে পৌঁছায়। পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা ১ লাখ ৯৪৬টি, ২০২২ সালের শেষে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে দাঁড়িয়েছিল। সবশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।