লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও র‍্যালি

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও র‍্যালি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

অনলাইন সংস্করণ:

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাপক গণজমায়েত, র‍্যালি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হলে শত শত মানুষের বসতবাড়ি, দীর্ঘদিনের আবাসন এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার আকুতি

এর আগে সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা আরাজী ভোগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ে গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আন্দোলনকারী নেতা আব্দুল কাদের জিলানী, ডা. শাহানুর রহমান, জাহিদ হাসান ও আলমগীর হোসেনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন:

“শত বছরের পুরোনো বসতি এবং কৃষকদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি ধ্বংস করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করছি না। তবে আমাদের দাবি—অনাবাদি ও পতিত জমিতে এটি নির্মাণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ উচ্ছেদের শিকার না হয়।”

ভূমির রেকর্ড ও আইনি জটিলতা

জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বক্তারা জানান, আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজার অধিকাংশ জমির এসএ, সিএস ও আরএস রেকর্ড সম্পূর্ণ রয়েছে। সামান্য কিছু জমির আরএস রেকর্ড না থাকলেও সেগুলোর মালিকানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান। নদীভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকের পূর্বপুরুষরা সময়মতো আরএস রেকর্ড সম্পন্ন করতে পারেননি, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে এই ভিটেমাটি টিকিয়ে রেখেছেন। জীবিকার শেষ সম্বল ফসলি জমি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ব নির্ধারিত বিকল্প কোনো স্থানে স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমিকা দিবসে রহস্যময় উপহার পেয়ে যা বললেন পরীমণি

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও র‍্যালি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও র‍্যালি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

অনলাইন সংস্করণ:

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাপক গণজমায়েত, র‍্যালি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হলে শত শত মানুষের বসতবাড়ি, দীর্ঘদিনের আবাসন এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার আকুতি

এর আগে সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা আরাজী ভোগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ে গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আন্দোলনকারী নেতা আব্দুল কাদের জিলানী, ডা. শাহানুর রহমান, জাহিদ হাসান ও আলমগীর হোসেনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন:

“শত বছরের পুরোনো বসতি এবং কৃষকদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি ধ্বংস করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করছি না। তবে আমাদের দাবি—অনাবাদি ও পতিত জমিতে এটি নির্মাণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ উচ্ছেদের শিকার না হয়।”

ভূমির রেকর্ড ও আইনি জটিলতা

জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বক্তারা জানান, আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজার অধিকাংশ জমির এসএ, সিএস ও আরএস রেকর্ড সম্পূর্ণ রয়েছে। সামান্য কিছু জমির আরএস রেকর্ড না থাকলেও সেগুলোর মালিকানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান। নদীভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকের পূর্বপুরুষরা সময়মতো আরএস রেকর্ড সম্পন্ন করতে পারেননি, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে এই ভিটেমাটি টিকিয়ে রেখেছেন। জীবিকার শেষ সম্বল ফসলি জমি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ব নির্ধারিত বিকল্প কোনো স্থানে স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।