লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনেভায় আইএলও সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস: এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

 জেনেভায় আইএলও সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস: এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট | জেনেভা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) যুগে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

গত ৮ জুন (২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘের টেম্পাস হলে আয়োজিত এই বিশ্ব সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।

গণতন্ত্র ও শ্রমিক অধিকারের প্রতিফলন:

বক্তব্যের শুরুতে শিমুল বিশ্বাস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে আমার জয় মূলত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জনগণের আস্থা ও স্বীকৃতিরই প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং যৌথ দরকষাকষির (Collective Bargaining) অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এআই প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা:

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কর্মসংস্থানে যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নারী কর্মসংস্থান ও যুব বেকারত্ব বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে।”

বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ কর্মশক্তি এবং বিদেশে কর্মরত ১ কোটি ৩০ লক্ষ শ্রমিকের দক্ষতার ঘাটতি পূরণে তিনি “দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক কাঠামো” গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এআই প্রযুক্তি কখনোই মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন বা সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধির হাতিয়ার হতে পারে না।”

অভিবাসী সুরক্ষা ও শোভন কর্মপরিবেশ:

প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক অর্থনীতিতে কর্মরত শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস আইএলও-র প্রস্তাবিত ‘প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে শোভন কাজ’ বিষয়ক কনভেনশনকে স্বাগত জানান। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও তাগিদ দেন।

বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান:

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও-র গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌলিক কনভেনশনসহ মোট তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে। বর্তমানে দেশে শ্রম আইন সংস্কার এবং মালিক-শ্রমিক সংলাপ জোরদার করার কাজ চলমান রয়েছে।

পরিশেষে, সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে শিমুল বিশ্বাসের এই বক্তব্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার ও প্রযুক্তিগত সচেতনতার নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

জেনেভায় আইএলও সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস: এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

 জেনেভায় আইএলও সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস: এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট | জেনেভা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) যুগে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

গত ৮ জুন (২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘের টেম্পাস হলে আয়োজিত এই বিশ্ব সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।

গণতন্ত্র ও শ্রমিক অধিকারের প্রতিফলন:

বক্তব্যের শুরুতে শিমুল বিশ্বাস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে আমার জয় মূলত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জনগণের আস্থা ও স্বীকৃতিরই প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং যৌথ দরকষাকষির (Collective Bargaining) অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এআই প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা:

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কর্মসংস্থানে যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নারী কর্মসংস্থান ও যুব বেকারত্ব বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে।”

বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ কর্মশক্তি এবং বিদেশে কর্মরত ১ কোটি ৩০ লক্ষ শ্রমিকের দক্ষতার ঘাটতি পূরণে তিনি “দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক কাঠামো” গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এআই প্রযুক্তি কখনোই মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন বা সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধির হাতিয়ার হতে পারে না।”

অভিবাসী সুরক্ষা ও শোভন কর্মপরিবেশ:

প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক অর্থনীতিতে কর্মরত শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস আইএলও-র প্রস্তাবিত ‘প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে শোভন কাজ’ বিষয়ক কনভেনশনকে স্বাগত জানান। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও তাগিদ দেন।

বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান:

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও-র গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌলিক কনভেনশনসহ মোট তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে। বর্তমানে দেশে শ্রম আইন সংস্কার এবং মালিক-শ্রমিক সংলাপ জোরদার করার কাজ চলমান রয়েছে।

পরিশেষে, সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে শিমুল বিশ্বাসের এই বক্তব্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার ও প্রযুক্তিগত সচেতনতার নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।