লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক দেখেই চটে গেলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক! কুড়িগ্রামে ধান সংগ্রহে হয়রানির তথ্য জানতে চাওয়ায় অসদাচরণ

সাংবাদিক দেখেই চটে গেলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক! কুড়িগ্রামে ধান সংগ্রহে হয়রানির তথ্য জানতে চাওয়ায় অসদাচরণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

सरकारी খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কৃষকদের হয়রানির বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়ায় এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চটে গেছেন কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক। শুধু তাই নয়, ওই সাংবাদিকের সাথে চরম ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও টাইমস অব বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এমন আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা। ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

‘আমি কি আপনার চাকরি করি?’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক তামজিদ হাসান তুরাগ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও কৃষক ভোগান্তির সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে যান। সেখানে কর্মকর্তা না থাকায় তাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। নিজেকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে দাবি করার চেষ্টা করে তিনি ফোনে বলেন:

“আমার সাথে আলাপ করার কী আছে? আমি কী আপনার চাকরি করি, না আপনি আমার চাকরি করেন! আপনার বিষয় থাকলে আপনারটা আপনি দেখবেন। এগুলা নিয়ে বিরক্ত করবেন না আমাকে।”

এই কথা বলেই সাংবাদিককে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লাইনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।

তামজিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অনিয়ম করছে। একজন সরকারি কর্মচারী যদি সাংবাদিকের সাথেই এমন আচরণ করার ধৃষ্টতা দেখান, তবে সাধারণ কৃষকদের সাথে তারা কেমন আচরণ করেন—তা সহজেই অনুমেয়।”

সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন লিটন।

তিনি বলেন:

  • “একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

  • “গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে প্রশ্ন করাটা খুবই স্বাভাবিক। জবাব দেওয়া না দেওয়া ওনার এখতিয়ার, কিন্তু অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অধিকার ওনার নেই।”

  • “এভাবে চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।”

‘সারাদিন একই মুড থাকে না’: খাদ্য নিয়ন্ত্রক

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে জানতে চাওয়া হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক নিজের আচরণের পক্ষে অদ্ভুত এক সাফাই গেয়েছেন।

তিনি বলেন, “কাজের ব্যস্ততায় সারাদিন একই মুড থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমার কথা হয়তো রূঢ় মনে হতে পারে, কিন্তু আমি খারাপ আচরণ করি নাই। এটা নিয়ে আপনারা মন খারাপ কইরেন না।”

তবে আচরণ ‘খারাপ ছিল না’ দাবি করলেও, অনিয়মের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি যোগ করেন, “উনি (সাংবাদিক) যে অভিযোগের কথা বলেছিলেন, আমি পরে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।”

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি-এনসিপি সংঘাত: দেড় বছরে ১৮ সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ

সাংবাদিক দেখেই চটে গেলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক! কুড়িগ্রামে ধান সংগ্রহে হয়রানির তথ্য জানতে চাওয়ায় অসদাচরণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সাংবাদিক দেখেই চটে গেলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক! কুড়িগ্রামে ধান সংগ্রহে হয়রানির তথ্য জানতে চাওয়ায় অসদাচরণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

सरकारी খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কৃষকদের হয়রানির বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়ায় এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চটে গেছেন কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক। শুধু তাই নয়, ওই সাংবাদিকের সাথে চরম ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও টাইমস অব বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এমন আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা। ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

‘আমি কি আপনার চাকরি করি?’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক তামজিদ হাসান তুরাগ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও কৃষক ভোগান্তির সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে যান। সেখানে কর্মকর্তা না থাকায় তাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। নিজেকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে দাবি করার চেষ্টা করে তিনি ফোনে বলেন:

“আমার সাথে আলাপ করার কী আছে? আমি কী আপনার চাকরি করি, না আপনি আমার চাকরি করেন! আপনার বিষয় থাকলে আপনারটা আপনি দেখবেন। এগুলা নিয়ে বিরক্ত করবেন না আমাকে।”

এই কথা বলেই সাংবাদিককে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লাইনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।

তামজিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অনিয়ম করছে। একজন সরকারি কর্মচারী যদি সাংবাদিকের সাথেই এমন আচরণ করার ধৃষ্টতা দেখান, তবে সাধারণ কৃষকদের সাথে তারা কেমন আচরণ করেন—তা সহজেই অনুমেয়।”

সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন লিটন।

তিনি বলেন:

  • “একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

  • “গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে প্রশ্ন করাটা খুবই স্বাভাবিক। জবাব দেওয়া না দেওয়া ওনার এখতিয়ার, কিন্তু অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অধিকার ওনার নেই।”

  • “এভাবে চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।”

‘সারাদিন একই মুড থাকে না’: খাদ্য নিয়ন্ত্রক

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে জানতে চাওয়া হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক নিজের আচরণের পক্ষে অদ্ভুত এক সাফাই গেয়েছেন।

তিনি বলেন, “কাজের ব্যস্ততায় সারাদিন একই মুড থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমার কথা হয়তো রূঢ় মনে হতে পারে, কিন্তু আমি খারাপ আচরণ করি নাই। এটা নিয়ে আপনারা মন খারাপ কইরেন না।”

তবে আচরণ ‘খারাপ ছিল না’ দাবি করলেও, অনিয়মের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি যোগ করেন, “উনি (সাংবাদিক) যে অভিযোগের কথা বলেছিলেন, আমি পরে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।”