লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি

সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি কে সামনে রেখে কালেক্টরেট চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে বৃক্ষরোপন অভিযান-২০২৬ পালন করা হয়

বিশেষ প্রতিনিধি: কবির মোঃ সামসুল আলম ফাইটার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শুকরিয়া পারভীন, জেলা প্রশাসক, পঞ্চগড়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) জনাব মোঃ ফরহাদ হোসেন।

আজ (১৩ জুন ২০২৬) সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর উদ্বোধন করছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে এই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জানা যায়, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য বন বিভাগ ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা ও আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণকে ৬টি খাতে ভাগ করা হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ধাপে ভাগ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ধারণাপত্রে যেসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে আশাবাদ যেমন আছে, তেমনি আছে স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকারও।

আলোচনার বিশ্লষনে উঠে আসে, ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিবছর গড়ে ৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে। সংখ্যার দিক থেকে যা বিপুল। এই সংখ্যার পেছনে ছুটতে গিয়ে কোনোভাবেই দায়সারা কাজ করা যাবে না। ৫ বছরে সরকার যদি অন্তত ১০ কোটি গাছও বাঁচিয়ে রাখতে পারে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট।

তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষরোপণ এবং পরবর্তী সময়ে পরিচর্যা করে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন বৈকি। এ জন্য কমিটিতে কোনো নামসর্বস্ব অদক্ষ প্রতিষ্ঠান, বৃক্ষ ও পরিবেশ ব্যবসায়ী অসাধু ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া যাবে না। দেশে উদ্ভিদ নিয়ে মূলধারায় কাজ করেন, এমন ব্যক্তি হাতে গোনা। তাঁদের কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ, উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করতে হলে আগে উদ্ভিদ চিনতে হবে এবং এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানও থাকতে হবে। বৃহৎ এই কর্মযজ্ঞ এককভাবে বন বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা অন্তত ১৫ বছরের বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। তা ছাড়া এ কাজ কোনো একক উদ্যোগের বিষয়ও নয়। এখানে মূল কাজই হলো উদ্ভিদবিজ্ঞানের—যার জন্য পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে প্রত্যক্ষ জ্ঞান প্রয়োজন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফরেস্টি, আরবারিকালচার এবং অ্যাগ্রিকালচারের। একাধিক যোগ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগেই কেবল বিপুল এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হতে পারে।

আলোচনায় প্রধান অতিথি বলেন, গাছ রোপণে কোনো দায়সারা পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না। রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩ ফুট উঁচু চারা সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চতায় ছোট চারাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা খরায় বাঁচিয়ে রাখা যায় না। বন বিভাগের নার্সারিগুলোর ২৫ কোটি চারা সরবরাহের সক্ষমতা নেই। এ ক্ষেত্রে গাছের তালিকা চূড়ান্ত করে বেসরকারি নার্সারিগুলোতে চাহিদাপত্র পাঠানো যেতে পারে। গাছ রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। খুঁটি ও বাঁশের তৈরি বেড়া বা খাঁচা দিতে হবে।

নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকলে ১০ শতাংশ গাছও টিকে থাকবে না। ফলে পুরো কার্যক্রমই বিফলে যাবে। গবাদিপশুর পাশাপাশি মানুষও গাছের জন্য বড় হুমকি। এ কারণে যেসব এলাকায় গাছ লাগানো হবে সেখানকার কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকেও যুক্ত করা যায়। বৃক্ষরোপণ–পরবর্তী অন্তত দুই বছর গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা না থাকলে সবাই দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও এর আশপাশের নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে প্রবেশের মুখে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ

সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি কে সামনে রেখে কালেক্টরেট চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে বৃক্ষরোপন অভিযান-২০২৬ পালন করা হয়

বিশেষ প্রতিনিধি: কবির মোঃ সামসুল আলম ফাইটার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শুকরিয়া পারভীন, জেলা প্রশাসক, পঞ্চগড়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) জনাব মোঃ ফরহাদ হোসেন।

আজ (১৩ জুন ২০২৬) সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর উদ্বোধন করছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে এই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জানা যায়, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য বন বিভাগ ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা ও আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণকে ৬টি খাতে ভাগ করা হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ধাপে ভাগ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ধারণাপত্রে যেসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে আশাবাদ যেমন আছে, তেমনি আছে স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকারও।

আলোচনার বিশ্লষনে উঠে আসে, ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিবছর গড়ে ৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে। সংখ্যার দিক থেকে যা বিপুল। এই সংখ্যার পেছনে ছুটতে গিয়ে কোনোভাবেই দায়সারা কাজ করা যাবে না। ৫ বছরে সরকার যদি অন্তত ১০ কোটি গাছও বাঁচিয়ে রাখতে পারে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট।

তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষরোপণ এবং পরবর্তী সময়ে পরিচর্যা করে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন বৈকি। এ জন্য কমিটিতে কোনো নামসর্বস্ব অদক্ষ প্রতিষ্ঠান, বৃক্ষ ও পরিবেশ ব্যবসায়ী অসাধু ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া যাবে না। দেশে উদ্ভিদ নিয়ে মূলধারায় কাজ করেন, এমন ব্যক্তি হাতে গোনা। তাঁদের কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ, উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করতে হলে আগে উদ্ভিদ চিনতে হবে এবং এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানও থাকতে হবে। বৃহৎ এই কর্মযজ্ঞ এককভাবে বন বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা অন্তত ১৫ বছরের বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। তা ছাড়া এ কাজ কোনো একক উদ্যোগের বিষয়ও নয়। এখানে মূল কাজই হলো উদ্ভিদবিজ্ঞানের—যার জন্য পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে প্রত্যক্ষ জ্ঞান প্রয়োজন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফরেস্টি, আরবারিকালচার এবং অ্যাগ্রিকালচারের। একাধিক যোগ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগেই কেবল বিপুল এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হতে পারে।

আলোচনায় প্রধান অতিথি বলেন, গাছ রোপণে কোনো দায়সারা পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না। রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩ ফুট উঁচু চারা সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চতায় ছোট চারাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা খরায় বাঁচিয়ে রাখা যায় না। বন বিভাগের নার্সারিগুলোর ২৫ কোটি চারা সরবরাহের সক্ষমতা নেই। এ ক্ষেত্রে গাছের তালিকা চূড়ান্ত করে বেসরকারি নার্সারিগুলোতে চাহিদাপত্র পাঠানো যেতে পারে। গাছ রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। খুঁটি ও বাঁশের তৈরি বেড়া বা খাঁচা দিতে হবে।

নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকলে ১০ শতাংশ গাছও টিকে থাকবে না। ফলে পুরো কার্যক্রমই বিফলে যাবে। গবাদিপশুর পাশাপাশি মানুষও গাছের জন্য বড় হুমকি। এ কারণে যেসব এলাকায় গাছ লাগানো হবে সেখানকার কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকেও যুক্ত করা যায়। বৃক্ষরোপণ–পরবর্তী অন্তত দুই বছর গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা না থাকলে সবাই দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও এর আশপাশের নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।