লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ‘ভূতের ভয়ে’ হোস্টেল ছাড়ল সরকারি স্কুলের ৬০০ শিক্ষার্থী

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় একটি সরকারি আবাসিক স্কুলের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হঠাৎ হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। কয়েকজন ছাত্রীকে ‘ভূতে ধরেছে’—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটে। মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলের ডোমা গ্রামে এই আদিবাসী আবাসিক স্কুলটি অবস্থিত। চিলখাদারা তালুকের এই স্কুলটিতে বর্তমানে ৮১০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে বলে রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২২ জুলাই। ওই দিন স্কুলের চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হাসছিল এবং কাঁদছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ছাত্রীরা এমন আচরণ করে থাকতে পারে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তাদের ‘ভূতে ধরেছে’। এমনকি কয়েকজন ছাত্রী দাবি করে, তারা নূপুরের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেয়েছে। এই গুজবের জের ধরে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে যায়। উল্লেখ্য, এই হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার ও বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের একাংশের বিশ্বাস, যে জায়গায় আশ্রম স্কুলটি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আগে একটি ‘মহুয়া’ গাছ ছিল এবং তাতে আত্মারা বাস করত। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ আত্মারা এখন শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অত্যাচার’ করছে। আরেকটি ধারণা হলো, স্কুলের পেছনে স্থানীয় দেবতার একটি মন্দির রয়েছে। স্কুলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ওই মন্দিরের জমি প্রভাবিত বা দখল করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এছাড়া, স্কুলের পাশের মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর পর তার আত্মা ‘ভূত’ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে বলেও আরেকটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে ডোমার ওই স্কুলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ছাত্রীদের এই শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি মূলত মানসিক চাপের কারণে সৃষ্ট এক ধরনের ‘নির্বাচিত হিস্টেরিয়া’ বা মাস হিস্টেরিয়া পরিস্থিতি। এছাড়া, কুসংস্কার দূর করতে মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্কুলটি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করেছেন। তারা এই ঘটনাকে অলৌকিক কিছু না ভেবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান।

এদিকে অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়ানখাড়ে শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে পুনরায় ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় হোস্টেল ও স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফিরেও এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর ওপর ছিনতাইকারীর হাম/লা, রগ কে/টে দেওয়ার অভিযোগ

ভারতে ‘ভূতের ভয়ে’ হোস্টেল ছাড়ল সরকারি স্কুলের ৬০০ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় একটি সরকারি আবাসিক স্কুলের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হঠাৎ হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। কয়েকজন ছাত্রীকে ‘ভূতে ধরেছে’—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটে। মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলের ডোমা গ্রামে এই আদিবাসী আবাসিক স্কুলটি অবস্থিত। চিলখাদারা তালুকের এই স্কুলটিতে বর্তমানে ৮১০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে বলে রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২২ জুলাই। ওই দিন স্কুলের চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হাসছিল এবং কাঁদছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ছাত্রীরা এমন আচরণ করে থাকতে পারে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তাদের ‘ভূতে ধরেছে’। এমনকি কয়েকজন ছাত্রী দাবি করে, তারা নূপুরের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেয়েছে। এই গুজবের জের ধরে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে যায়। উল্লেখ্য, এই হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার ও বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের একাংশের বিশ্বাস, যে জায়গায় আশ্রম স্কুলটি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আগে একটি ‘মহুয়া’ গাছ ছিল এবং তাতে আত্মারা বাস করত। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ আত্মারা এখন শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অত্যাচার’ করছে। আরেকটি ধারণা হলো, স্কুলের পেছনে স্থানীয় দেবতার একটি মন্দির রয়েছে। স্কুলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ওই মন্দিরের জমি প্রভাবিত বা দখল করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এছাড়া, স্কুলের পাশের মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর পর তার আত্মা ‘ভূত’ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে বলেও আরেকটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে ডোমার ওই স্কুলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ছাত্রীদের এই শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি মূলত মানসিক চাপের কারণে সৃষ্ট এক ধরনের ‘নির্বাচিত হিস্টেরিয়া’ বা মাস হিস্টেরিয়া পরিস্থিতি। এছাড়া, কুসংস্কার দূর করতে মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্কুলটি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করেছেন। তারা এই ঘটনাকে অলৌকিক কিছু না ভেবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান।

এদিকে অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়ানখাড়ে শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে পুনরায় ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় হোস্টেল ও স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফিরেও এসেছে।