লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮০ কোটি খরচে ১০ বছরে ১২ সফটওয়্যার, ব্যবহারের সুফল কতটুকু

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষে গত আগস্টে প্রকল্পটির সময়সীমা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১০ বছর সময় পার হলেও পরিকল্পিত ১৬টি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির মধ্যে মাত্র ১২টির কাজ শেষ হয়েছে এবং এগুলোর বড় অংশের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

প্রকল্পটির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘কাগজডটএআই’ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষাকে উন্মুক্ত করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং কাগজ টুলসের সুবিধা নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই সরকারি সেবার ব্যবহার খুবই কম। ছবি বা নথি থেকে লেখা ওয়ার্ডে রূপান্তরের (ওসিআর) মতো কাজে সাধারণ মানুষ বহু আগে থেকেই বিনামূল্যে গুগল লেন্সসহ নানা অ্যাপ ব্যবহার করে আসছে, যা কাগজডটএআই চালুর অনেক আগে থেকেই বাজারে বিদ্যমান।

চলতি প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের অধীনে বেশ কয়েকটি টুল তৈরি হলেও সব কটি কাজ খুব একটা অর্থবহ হয়নি। তৈরি করা প্রযুক্তিগুলো যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা হতে পারেনি। বর্তমানে এসব টুলকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে ব্যবহারবান্ধব করার কাজ চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিটি খাতের চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০ থেকে ১২টির পরিধি পুনর্মূল্যায়ন করে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের ব্যয় এখনো কমানো হয়নি।

বিগত ১০ বছরে এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে সফটওয়্যার উন্নয়ন, হোস্টিং এবং সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে অফিস-সজ্জা, সভা-সেমিনার, প্রচার অভিযান ও পরিচালন খাতে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় তৈরি বাবদ প্রদর্শিত খরচ ও প্রকৃত ব্যয়ের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা প্রয়োজন।

তৈরি করা বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্লেষণে দেখা যায় সেবার মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য রয়েছে। যেমন- ‘বাংলাডটগভডটবিডি’ ওয়েবসাইটে রাখা সরকারি সেবার এআই সহকারী ‘জিজ্ঞাসা’ চ্যাটবটের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দিনে গড়ে মাত্র ১১০টি অনুরোধ আসছে। লেখার ফন্ট রূপান্তর সেবায় ৩৫ দিনে মোট ২৭৫টি ফাইল রূপান্তর করা হয়েছে এবং কাগজডটএআই-এর ওসিআর সেবায় দৈনিক অনুরোধ আসে মাত্র ৫০টি। কেবল বাংলা বানান যাচাইয়ের সেবায় দৈনিক প্রায় ৫ লাখ অনুরোধ এসে থাকে।

এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে বিগত এক মাসে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে, বাংলা বানান যাচাই সেবাটি সন্তোষজনক ফল দিলেও অডিও থেকে লেখা তৈরির সেবায় বড় ফাইলের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ‘জিজ্ঞাসা’ চ্যাটবট সাধারণ অনুসন্ধানের উত্তর দিলেও জটিল প্রশ্নের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) সক্ষমতায় একসঙ্গে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ব্যবহারকারীকে সেবা দেওয়া সম্ভব। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করতে হয়। প্রযুক্তিগুলো সর্বসাধারণের জন্য ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করতে বাড়তি জিপিইউ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা প্রয়োজন। অবকাঠামোর অভাবে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প শেষে এগুলো সচল রাখা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব করিম জানান, প্রকল্পের মূল কাজ শেষে অবকাঠামো ও তথ্যভান্ডার বিসিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে জিপিইউ সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

তবে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগ মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না। প্রকল্পটির অধীনে ৮ হাজার কপিরাইটমুক্ত বই ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কথা থেকে লেখায় রূপান্তরের জন্য ১০ হাজার ঘণ্টা এবং লেখা থেকে কণ্ঠ সৃষ্টির জন্য ১ হাজার ঘণ্টার অডিও ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার ১২ হাজার মিনিটের বেশি অডিও এবং ইশারাভাষার ৪২ হাজার ৮০০টি ভিডিও সংরক্ষিত হয়েছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল উপাত্ত সংগ্রহের সংখ্যা নয়, প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্বই সাফল্যের আসল মানদণ্ড।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অধীনে ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২১টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলোর অনিয়ম মূল্যায়নে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট গঠিত ১২ সদস্যের কমিটি রিপোর্ট দেয় যে, অপ্রয়োজনীয় খাত ছাঁটাই করলে ৬ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। ভুয়া অ্যাপ, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর নামে অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রধান অভিযোগ তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে, যিনি বর্তমানে কারাবন্দী। এমনকি এর আগে মোবাইল গেম ও অ্যাপ তৈরির ৩৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের বড় অংশ অপচয় হয়েছিল এবং ১৭ শতাংশের বেশি অর্থ শেখ পরিবারের নামে চলচ্চিত্র ও গেম তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন আইসিটি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়িত কাজের ফল যাচাই না করে শুধু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অর্থ হলো অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ডকেই প্রশ্রয় দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

একই সুরে বিদায় নিলেন মেসি-রোনালদো-নেইমার

৮০ কোটি খরচে ১০ বছরে ১২ সফটওয়্যার, ব্যবহারের সুফল কতটুকু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষে গত আগস্টে প্রকল্পটির সময়সীমা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১০ বছর সময় পার হলেও পরিকল্পিত ১৬টি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির মধ্যে মাত্র ১২টির কাজ শেষ হয়েছে এবং এগুলোর বড় অংশের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

প্রকল্পটির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘কাগজডটএআই’ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষাকে উন্মুক্ত করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং কাগজ টুলসের সুবিধা নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই সরকারি সেবার ব্যবহার খুবই কম। ছবি বা নথি থেকে লেখা ওয়ার্ডে রূপান্তরের (ওসিআর) মতো কাজে সাধারণ মানুষ বহু আগে থেকেই বিনামূল্যে গুগল লেন্সসহ নানা অ্যাপ ব্যবহার করে আসছে, যা কাগজডটএআই চালুর অনেক আগে থেকেই বাজারে বিদ্যমান।

চলতি প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের অধীনে বেশ কয়েকটি টুল তৈরি হলেও সব কটি কাজ খুব একটা অর্থবহ হয়নি। তৈরি করা প্রযুক্তিগুলো যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা হতে পারেনি। বর্তমানে এসব টুলকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে ব্যবহারবান্ধব করার কাজ চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিটি খাতের চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০ থেকে ১২টির পরিধি পুনর্মূল্যায়ন করে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের ব্যয় এখনো কমানো হয়নি।

বিগত ১০ বছরে এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে সফটওয়্যার উন্নয়ন, হোস্টিং এবং সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে অফিস-সজ্জা, সভা-সেমিনার, প্রচার অভিযান ও পরিচালন খাতে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় তৈরি বাবদ প্রদর্শিত খরচ ও প্রকৃত ব্যয়ের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা প্রয়োজন।

তৈরি করা বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্লেষণে দেখা যায় সেবার মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য রয়েছে। যেমন- ‘বাংলাডটগভডটবিডি’ ওয়েবসাইটে রাখা সরকারি সেবার এআই সহকারী ‘জিজ্ঞাসা’ চ্যাটবটের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দিনে গড়ে মাত্র ১১০টি অনুরোধ আসছে। লেখার ফন্ট রূপান্তর সেবায় ৩৫ দিনে মোট ২৭৫টি ফাইল রূপান্তর করা হয়েছে এবং কাগজডটএআই-এর ওসিআর সেবায় দৈনিক অনুরোধ আসে মাত্র ৫০টি। কেবল বাংলা বানান যাচাইয়ের সেবায় দৈনিক প্রায় ৫ লাখ অনুরোধ এসে থাকে।

এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে বিগত এক মাসে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে, বাংলা বানান যাচাই সেবাটি সন্তোষজনক ফল দিলেও অডিও থেকে লেখা তৈরির সেবায় বড় ফাইলের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ‘জিজ্ঞাসা’ চ্যাটবট সাধারণ অনুসন্ধানের উত্তর দিলেও জটিল প্রশ্নের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) সক্ষমতায় একসঙ্গে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ব্যবহারকারীকে সেবা দেওয়া সম্ভব। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করতে হয়। প্রযুক্তিগুলো সর্বসাধারণের জন্য ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করতে বাড়তি জিপিইউ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা প্রয়োজন। অবকাঠামোর অভাবে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প শেষে এগুলো সচল রাখা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব করিম জানান, প্রকল্পের মূল কাজ শেষে অবকাঠামো ও তথ্যভান্ডার বিসিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে জিপিইউ সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

তবে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগ মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না। প্রকল্পটির অধীনে ৮ হাজার কপিরাইটমুক্ত বই ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কথা থেকে লেখায় রূপান্তরের জন্য ১০ হাজার ঘণ্টা এবং লেখা থেকে কণ্ঠ সৃষ্টির জন্য ১ হাজার ঘণ্টার অডিও ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার ১২ হাজার মিনিটের বেশি অডিও এবং ইশারাভাষার ৪২ হাজার ৮০০টি ভিডিও সংরক্ষিত হয়েছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল উপাত্ত সংগ্রহের সংখ্যা নয়, প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্বই সাফল্যের আসল মানদণ্ড।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অধীনে ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২১টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলোর অনিয়ম মূল্যায়নে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট গঠিত ১২ সদস্যের কমিটি রিপোর্ট দেয় যে, অপ্রয়োজনীয় খাত ছাঁটাই করলে ৬ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। ভুয়া অ্যাপ, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর নামে অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রধান অভিযোগ তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে, যিনি বর্তমানে কারাবন্দী। এমনকি এর আগে মোবাইল গেম ও অ্যাপ তৈরির ৩৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের বড় অংশ অপচয় হয়েছিল এবং ১৭ শতাংশের বেশি অর্থ শেখ পরিবারের নামে চলচ্চিত্র ও গেম তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন আইসিটি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়িত কাজের ফল যাচাই না করে শুধু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অর্থ হলো অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ডকেই প্রশ্রয় দেওয়া।