লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহের খোঁজে যৌথ বাহিনীর অভিযান, মেলেনি সন্ধান

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে আসে বাহিনীটি। দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুর্গম পাহাড়ে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কেউ মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে কি না, এমন কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে দেড় শতাধিক যৌথ বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানে অংশ নেওয়া জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টো জানান, পাহাড়ে মরদেহ না পাওয়া গেলেও সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রান্নার পাতিল, সৌর প্যানেল ও বিছানাপত্র পাওয়া গেছে। পাহাড়টি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় মরদেহ থাকলেও তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ধারণা করছিলেন যে, গোলাগুলির ঘটনায় ওই কয়েকজন নিহত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর আগেই সেখানে মরদেহ থাকার কথা শোনা গিয়েছিল এবং উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও একই কথা জানিয়েছিলেন। মরদেহ না পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার একই পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মানবপাচারকারীদের একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ঘটনার পর গত শুক্রবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছিলেন, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সত্যিই লাশ আছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

একই সুরে বিদায় নিলেন মেসি-রোনালদো-নেইমার

টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহের খোঁজে যৌথ বাহিনীর অভিযান, মেলেনি সন্ধান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে আসে বাহিনীটি। দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুর্গম পাহাড়ে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কেউ মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে কি না, এমন কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে দেড় শতাধিক যৌথ বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানে অংশ নেওয়া জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টো জানান, পাহাড়ে মরদেহ না পাওয়া গেলেও সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রান্নার পাতিল, সৌর প্যানেল ও বিছানাপত্র পাওয়া গেছে। পাহাড়টি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় মরদেহ থাকলেও তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ধারণা করছিলেন যে, গোলাগুলির ঘটনায় ওই কয়েকজন নিহত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর আগেই সেখানে মরদেহ থাকার কথা শোনা গিয়েছিল এবং উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও একই কথা জানিয়েছিলেন। মরদেহ না পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার একই পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মানবপাচারকারীদের একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ঘটনার পর গত শুক্রবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছিলেন, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সত্যিই লাশ আছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।