লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘরে দলীয় ইতিহাস চাই না: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না।

নাহিদ ইসলাম জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে কিছু পরিচিত মুখ ও ঘটনার ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ এখানে সেভাবে উঠে আসেনি। তিনি সময়ের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ঘটনাগুলো সাজানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর আন্দোলনের ইতিহাস আলাদাভাবে প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দলীয়করণের কারণে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে তা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

জাদুঘরের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি জানান, প্রায় ২০০ জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন, যা জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর মাধ্যমে এটি পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

শহীদ আবু সাঈদের ছবি বর্তমানে প্রদর্শনীতে না থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে যে, তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যা জাদুঘরে দেখানো হবে। তবে নাহিদ ইসলাম শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আরও শৈল্পিকভাবে প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া গণভবনের ১৭ একর জায়গাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের পরিসর বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা ও ভারতবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ইতিহাসও জাদুঘরে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন

জুলাই জাদুঘরে দলীয় ইতিহাস চাই না: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না।

নাহিদ ইসলাম জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে কিছু পরিচিত মুখ ও ঘটনার ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ এখানে সেভাবে উঠে আসেনি। তিনি সময়ের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ঘটনাগুলো সাজানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর আন্দোলনের ইতিহাস আলাদাভাবে প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দলীয়করণের কারণে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে তা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

জাদুঘরের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি জানান, প্রায় ২০০ জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন, যা জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর মাধ্যমে এটি পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

শহীদ আবু সাঈদের ছবি বর্তমানে প্রদর্শনীতে না থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে যে, তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যা জাদুঘরে দেখানো হবে। তবে নাহিদ ইসলাম শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আরও শৈল্পিকভাবে প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া গণভবনের ১৭ একর জায়গাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের পরিসর বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা ও ভারতবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ইতিহাসও জাদুঘরে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।