লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নতুন কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুসারে এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ১০ সদস্যের ওই কমিটি ‘সচিব কমিটি’ নামেও পরিচিত। এই কমিটি তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। উল্লেখ্য, নবম জাতীয় বেতন কমিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা নিয়ে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির পাশাপাশি ডিজেলেও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের অভাব, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারকে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

তবে এই পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামো যথাসময়ে হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।

অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দিলেও এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নতুন কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুসারে এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ১০ সদস্যের ওই কমিটি ‘সচিব কমিটি’ নামেও পরিচিত। এই কমিটি তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। উল্লেখ্য, নবম জাতীয় বেতন কমিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা নিয়ে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির পাশাপাশি ডিজেলেও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের অভাব, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারকে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

তবে এই পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামো যথাসময়ে হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।

অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দিলেও এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।