লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির বিপরীতে প্রার্থী হলেন কর্নেল অলি আহমদ

প্রায় তিন যুগ পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবার ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। তবু বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট দলটিরই একসময়ের ঘরের লোক, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে। আজ রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়। জামায়াত ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই জোটের অন্যতম সদস্য।

১১-দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, জামায়াত অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল এবং অলি আহমদও এতে রাজি হয়েছেন। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল, যেখানে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। এবার বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যা ১৯৯১ সালের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় তাদের প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত, যা বিরোধী দলগুলোর নেতাদের কাছেও পরিষ্কার। এরপরও অলি আহমদকে প্রার্থী করার পেছনে জোট ও জোট-বহির্ভূত রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বারবার অভিযুক্ত হয়ে আসছে। অন্যদিকে অলি আহমদ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় জামায়াত তাঁকে সামনে রেখে একাত্তরের সমালোচনার কিছুটা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্র জানায়, ১১-দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে পারলে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি করার প্রতিশ্রুতি এলডিপিকে দেওয়া হয়েছিল। পরাজয়ের আশঙ্কা জেনেও জামায়াত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ১১-দলীয় ঐক্য সক্রিয়—এটিই দেখাতে চেয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান অলি আহমদকে স্বাধীনতার ঘোষণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পরদিন কক্সবাজারে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ইতিহাস বিকৃতি করছে।

অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের অধীন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অলি আহমদ ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১ সালে তিনি খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ সালের দুটি সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের সরকারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হলেও তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, যা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। ২০০৪ সালে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা গঠন করলে অলি আহমদ ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অলি আহমদ এলডিপির ‘ছাতা’ প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০১২ সালে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট গঠিত হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ‘ছাতা’ প্রতীকে নির্বাচন করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিএনপি ২০-দলীয় জোট ভেঙে দিলে অলি আহমদের এলডিপি বিএনপির সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী ছিল। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কাছ থেকে ১৪টি আসন চেয়ে সাড়া না পেয়ে তিনি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং পরে জামায়াত জোটে যোগ দেন। গত ২৫ জুলাই সিলেটে অলি আহমদ বলেছিলেন, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক এক হয়ে গেলে সরকারের পতন অনিবার্য। রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির বিপরীতে প্রার্থী হলেন কর্নেল অলি আহমদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় তিন যুগ পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবার ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। তবু বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট দলটিরই একসময়ের ঘরের লোক, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে। আজ রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়। জামায়াত ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই জোটের অন্যতম সদস্য।

১১-দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, জামায়াত অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল এবং অলি আহমদও এতে রাজি হয়েছেন। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল, যেখানে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। এবার বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যা ১৯৯১ সালের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় তাদের প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত, যা বিরোধী দলগুলোর নেতাদের কাছেও পরিষ্কার। এরপরও অলি আহমদকে প্রার্থী করার পেছনে জোট ও জোট-বহির্ভূত রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বারবার অভিযুক্ত হয়ে আসছে। অন্যদিকে অলি আহমদ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় জামায়াত তাঁকে সামনে রেখে একাত্তরের সমালোচনার কিছুটা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্র জানায়, ১১-দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে পারলে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি করার প্রতিশ্রুতি এলডিপিকে দেওয়া হয়েছিল। পরাজয়ের আশঙ্কা জেনেও জামায়াত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ১১-দলীয় ঐক্য সক্রিয়—এটিই দেখাতে চেয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান অলি আহমদকে স্বাধীনতার ঘোষণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পরদিন কক্সবাজারে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ইতিহাস বিকৃতি করছে।

অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের অধীন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অলি আহমদ ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১ সালে তিনি খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ সালের দুটি সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের সরকারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হলেও তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, যা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। ২০০৪ সালে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা গঠন করলে অলি আহমদ ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অলি আহমদ এলডিপির ‘ছাতা’ প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০১২ সালে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট গঠিত হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ‘ছাতা’ প্রতীকে নির্বাচন করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিএনপি ২০-দলীয় জোট ভেঙে দিলে অলি আহমদের এলডিপি বিএনপির সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী ছিল। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কাছ থেকে ১৪টি আসন চেয়ে সাড়া না পেয়ে তিনি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং পরে জামায়াত জোটে যোগ দেন। গত ২৫ জুলাই সিলেটে অলি আহমদ বলেছিলেন, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক এক হয়ে গেলে সরকারের পতন অনিবার্য। রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।