লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ ও মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই সেবা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি ভালো বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার ভিত্তি হতে পারে। তিনি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, যে উপজেলায় তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা হয়তো তাদের নিজ এলাকা নয়, কিন্তু সেখানকার মানুষগুলো আমাদেরই আপনজন। তাই দেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সাথে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনাই খাল খননের মূল উদ্দেশ্য। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শুধু আইনের ওপর নির্ভর না করে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইউএনওদের নির্দেশ দেন স্থানীয় পর্যায়ে গাছ রোপণ ও খেলাধুলার প্রসারে উদ্যোগী হতে। তিনি বলেন, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে, যা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করবে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নিষ্ঠুরতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। শিশুদের পাঠ্যক্রমে পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো যুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সভায় ইউএনওরা খাল খননের ফলে স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, যেসব এলাকায় আগে বছরে দুই ফসল হতো, এখন সেখানে তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও নেই জিয়া: জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা ও রিজভীর প্রশ্ন

দেশ ও মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই সেবা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি ভালো বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার ভিত্তি হতে পারে। তিনি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, যে উপজেলায় তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা হয়তো তাদের নিজ এলাকা নয়, কিন্তু সেখানকার মানুষগুলো আমাদেরই আপনজন। তাই দেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সাথে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনাই খাল খননের মূল উদ্দেশ্য। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শুধু আইনের ওপর নির্ভর না করে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইউএনওদের নির্দেশ দেন স্থানীয় পর্যায়ে গাছ রোপণ ও খেলাধুলার প্রসারে উদ্যোগী হতে। তিনি বলেন, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে, যা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করবে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নিষ্ঠুরতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। শিশুদের পাঠ্যক্রমে পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো যুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সভায় ইউএনওরা খাল খননের ফলে স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, যেসব এলাকায় আগে বছরে দুই ফসল হতো, এখন সেখানে তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।