লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

সাগর উত্তাল থাকার কারণে সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টার্মিনাল থেকে কার্গো জাহাজটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনালটি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। তবে এর কিছু সময় পরই তা বন্ধ করে দিতে হয়। বর্তমানে কেবল এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ আরও কমে গেছে, যার ফলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট নতুন করে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটের প্রভাব শুধু সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; কম চাপের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদনও বড় ধরনের ব্যাহতের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে।

অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি যদি আরও বাড়ে, তবে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে একদিকে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গৃহস্থালি ও শিল্প উৎপাদনে বিপর্যয়—সব মিলিয়ে গ্রাহকেরা দ্বিমুখী সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। সামিটের এলএনজি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডের ওপর এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ মাসে দুই কোটি শিশুর টিকাদান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সফল

সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সাগর উত্তাল থাকার কারণে সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টার্মিনাল থেকে কার্গো জাহাজটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনালটি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। তবে এর কিছু সময় পরই তা বন্ধ করে দিতে হয়। বর্তমানে কেবল এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ আরও কমে গেছে, যার ফলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট নতুন করে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটের প্রভাব শুধু সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; কম চাপের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদনও বড় ধরনের ব্যাহতের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে।

অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি যদি আরও বাড়ে, তবে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে একদিকে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গৃহস্থালি ও শিল্প উৎপাদনে বিপর্যয়—সব মিলিয়ে গ্রাহকেরা দ্বিমুখী সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। সামিটের এলএনজি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডের ওপর এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।