লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদন করার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বৈঠকে দেশের কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন সব কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুততম সময়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষকদের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষিকাজে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকদের সেচব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দিতে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত বন্ধুকে নিয়ে বিদ্রূপ, দোষীদের স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধের দাবি রোনালদোর

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদন করার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বৈঠকে দেশের কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন সব কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুততম সময়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষকদের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষিকাজে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকদের সেচব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দিতে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।