লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে রাবিতে গরুভোজ, ঘিরে বিতর্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি গরুভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে জবাই করা গরুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘বাকশাল’। আয়োজকেরা এই কর্মসূচিকে ‘জুলাইয়ের জিয়াফত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার এই ভোজের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৫ আগস্টের আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি জবাই করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে। এরপর মধ্যরাতে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আম্মারকে বাকশাল প্রসঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এই গরুভোজে অংশ নিয়েছেন। গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংস এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

শুরুতে রাকসুর ব্যানারে এই আয়োজনের প্রচারণা চালানো হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কৌশিক দাশ কংকন নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, রাকসুর নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করার এখতিয়ার কারও নেই। নিশা আক্তার নামে আরেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও ইন্টারনেট সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এই আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানারে করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ হলেও শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এদিকে রাকসুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, ‘শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই গরুটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’ গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ হিসেবে তিনি বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিকে উল্লেখ করেছেন। তবে এই আয়োজন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিল গেটস কন্যার স্টার্টআপে প্রতারণার অভিযোগ, সহপাঠীদের বিস্ফোরক তথ্য

গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে রাবিতে গরুভোজ, ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি গরুভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে জবাই করা গরুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘বাকশাল’। আয়োজকেরা এই কর্মসূচিকে ‘জুলাইয়ের জিয়াফত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার এই ভোজের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৫ আগস্টের আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি জবাই করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে। এরপর মধ্যরাতে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আম্মারকে বাকশাল প্রসঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এই গরুভোজে অংশ নিয়েছেন। গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংস এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

শুরুতে রাকসুর ব্যানারে এই আয়োজনের প্রচারণা চালানো হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কৌশিক দাশ কংকন নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, রাকসুর নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করার এখতিয়ার কারও নেই। নিশা আক্তার নামে আরেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও ইন্টারনেট সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এই আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানারে করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ হলেও শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এদিকে রাকসুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, ‘শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই গরুটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’ গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ হিসেবে তিনি বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিকে উল্লেখ করেছেন। তবে এই আয়োজন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।