লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের সহাবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধ যখন সংঘাত ও উত্তেজনার দিকে মোড় নিচ্ছে, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রটি বেশ ব্যতিক্রম। একই ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরাসরি কোনো বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি। ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা থাকলেও উভয় সংগঠনই প্রকাশ্য সংঘাত এড়িয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব সংঘাতের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই শান্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অবস্থান জানানোর দিকেই দুই সংগঠন বেশি মনোযোগী।

যদিও অতীতে হল দখলের অভিযোগ নিয়ে উভয় সংগঠন একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং ছাত্রশিবির এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে। তবে ছাত্রদল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি প্রক্টর অফিসে রাকসু জিএস আম্মার এবং সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাসের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে ছাত্রদল রাকসু ভবনে হামলা চালায়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে আনাস ও তার সহযোগীরা রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে কর্মসূচি পালন করে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, হল দখল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরাসরি সংঘাতে জড়ালে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এই হিসাব থেকেই উভয় পক্ষ সতর্ক রয়েছে।

ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ছাত্রদল একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তাদের ১৪২ জন নেতাকর্মী শাহাদাতবরণ করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ছাত্রদল অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, কারো উসকানিতে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের ওপর আঘাতের ঘটনা ঘটলেও রাবিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। শিক্ষার্থীরা যেন অবাধে পড়াশোনা করতে পারে, সে বিষয়ে তারা আন্তরিক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বর্তমানে কোনো বড় ধরনের আশঙ্কার সুযোগ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিল গেটস কন্যার স্টার্টআপে প্রতারণার অভিযোগ, সহপাঠীদের বিস্ফোরক তথ্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের সহাবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধ যখন সংঘাত ও উত্তেজনার দিকে মোড় নিচ্ছে, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রটি বেশ ব্যতিক্রম। একই ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরাসরি কোনো বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি। ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা থাকলেও উভয় সংগঠনই প্রকাশ্য সংঘাত এড়িয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব সংঘাতের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই শান্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অবস্থান জানানোর দিকেই দুই সংগঠন বেশি মনোযোগী।

যদিও অতীতে হল দখলের অভিযোগ নিয়ে উভয় সংগঠন একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং ছাত্রশিবির এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে। তবে ছাত্রদল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি প্রক্টর অফিসে রাকসু জিএস আম্মার এবং সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাসের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে ছাত্রদল রাকসু ভবনে হামলা চালায়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে আনাস ও তার সহযোগীরা রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে কর্মসূচি পালন করে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, হল দখল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরাসরি সংঘাতে জড়ালে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এই হিসাব থেকেই উভয় পক্ষ সতর্ক রয়েছে।

ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ছাত্রদল একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তাদের ১৪২ জন নেতাকর্মী শাহাদাতবরণ করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ছাত্রদল অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, কারো উসকানিতে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের ওপর আঘাতের ঘটনা ঘটলেও রাবিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। শিক্ষার্থীরা যেন অবাধে পড়াশোনা করতে পারে, সে বিষয়ে তারা আন্তরিক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বর্তমানে কোনো বড় ধরনের আশঙ্কার সুযোগ নেই।