লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ গতকাল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তিনি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা।

প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই জেলার প্রশাসন নিষ্ক্রিয় এবং ব্যর্থ। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের দ্বারা আমাদের নিরাপত্তা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ আজ বিকেলে দলের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এজাহারটি জমা দেন। এতে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এজাহার হাতে পাওয়া গেছে এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যের গাড়িতে লাঠি থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রাখি। কারণ, সরকারিভাবে এখনো অস্ত্রের লাইসেন্স করা নেই। সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি। নিজের নিরাপত্তার জন্য এগুলো হেফাজতে রাখি। হামলার সময় আমার চালক লাঠি হাতে নেমেছিল এবং আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে যাই।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ গতকাল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তিনি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা।

প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই জেলার প্রশাসন নিষ্ক্রিয় এবং ব্যর্থ। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের দ্বারা আমাদের নিরাপত্তা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ আজ বিকেলে দলের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এজাহারটি জমা দেন। এতে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এজাহার হাতে পাওয়া গেছে এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যের গাড়িতে লাঠি থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রাখি। কারণ, সরকারিভাবে এখনো অস্ত্রের লাইসেন্স করা নেই। সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি। নিজের নিরাপত্তার জন্য এগুলো হেফাজতে রাখি। হামলার সময় আমার চালক লাঠি হাতে নেমেছিল এবং আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে যাই।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক।