লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুণগত মান বজায় রেখে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন করা। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও স্থিতিশীল করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য দুটি—দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। বাংলাদেশ যদি কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চায়, তবে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।

গবেষকদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ ও কৃষির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে আরও নজর দিতে হবে। মানুষ এখন নিরাপদ, সুন্দর ও মানসম্পন্ন খাদ্য চায়। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এবং সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের (ভারী ধাতু) উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পানিতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি আমাদের প্রধান খাদ্য চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ক্ষতিকর উপাদান ঠিক কোথা থেকে আসছে—মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে—তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সরকার ইতিমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়; বরং কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এর চমৎকার উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।

ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেন। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

গুণগত মান বজায় রেখে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন করা। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও স্থিতিশীল করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য দুটি—দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। বাংলাদেশ যদি কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চায়, তবে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।

গবেষকদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ ও কৃষির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে আরও নজর দিতে হবে। মানুষ এখন নিরাপদ, সুন্দর ও মানসম্পন্ন খাদ্য চায়। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এবং সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের (ভারী ধাতু) উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পানিতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি আমাদের প্রধান খাদ্য চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ক্ষতিকর উপাদান ঠিক কোথা থেকে আসছে—মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে—তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সরকার ইতিমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়; বরং কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। এর চমৎকার উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।

ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেন। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।