লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর হচ্ছে

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই অধিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্র ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাঁদের সহায়তায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাঁরা অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রাষ্ট্র তাঁদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়। যাঁরা গুম হয়েছেন, নির্মম খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফেরেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর কারাবাস খেটেছেন, তাঁদের এই ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নতুন অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করা, মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ করা এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক চেতনাকে পদদলিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যে বিশাল জনগোষ্ঠী জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, গুম হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা। তৃতীয়ত, রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব যুক্ত করা।

এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর হচ্ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই অধিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্র ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাঁদের সহায়তায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাঁরা অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রাষ্ট্র তাঁদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়। যাঁরা গুম হয়েছেন, নির্মম খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফেরেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর কারাবাস খেটেছেন, তাঁদের এই ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নতুন অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করা, মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ করা এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক চেতনাকে পদদলিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যে বিশাল জনগোষ্ঠী জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, গুম হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা। তৃতীয়ত, রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব যুক্ত করা।

এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।