লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করাটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল সংকটের বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে, তবে বাংলাদেশকে যেন একা দাঁড়াতে না হয়।

রবিবার রাজধানীতে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর : মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধানের পথে’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর পূর্তি কেবল পেছনের দিকে তাকানোর সময় নয়, বরং নতুন উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সময়। তিনি সতর্ক করে বলেন, টেকসই সমাধান ছাড়া আরেকটি দশক পার হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুদের শৈশব, তরুণের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং ঘরহীন পরিবারের অনিশ্চিত জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর থেকে বাংলাদেশ তার সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত রেখেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিজস্ব উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ, সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে।

বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থায়ন কমে গেলেও খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা এবং সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এছাড়া শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

চীনের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির নেতৃত্বের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব ভাগাভাগি কেবল সহানুভূতি বা সংহতির বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সংলাপে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনউদ্দীন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডে, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মুর্শেদ চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থায়ন কমলেও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন অপরিসীম। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো রোহিঙ্গাদের জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান।

১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাংলাদেশের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারও সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব: শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করাটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল সংকটের বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে, তবে বাংলাদেশকে যেন একা দাঁড়াতে না হয়।

রবিবার রাজধানীতে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর : মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধানের পথে’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর পূর্তি কেবল পেছনের দিকে তাকানোর সময় নয়, বরং নতুন উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সময়। তিনি সতর্ক করে বলেন, টেকসই সমাধান ছাড়া আরেকটি দশক পার হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুদের শৈশব, তরুণের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং ঘরহীন পরিবারের অনিশ্চিত জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর থেকে বাংলাদেশ তার সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত রেখেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিজস্ব উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ, সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে।

বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থায়ন কমে গেলেও খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা এবং সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এছাড়া শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

চীনের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির নেতৃত্বের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব ভাগাভাগি কেবল সহানুভূতি বা সংহতির বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সংলাপে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনউদ্দীন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডে, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মুর্শেদ চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থায়ন কমলেও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন অপরিসীম। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো রোহিঙ্গাদের জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান।

১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাংলাদেশের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারও সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।